ছবি: জৈন্তা বার্তা
প্রকৃতি ও ইতিহাসের মেলবন্ধন হিসেবে পরিচিত সিলেটের পর্যটনকন্যা জাফলংয়ে অবৈধ পাথরখেকো চক্রের বেপরোয়া তা-বে ধ্বংসের মুখে পড়েছে প্রায় সাতশ' বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী কালী মন্দির। শত শত বছরের ধর্মীয় ঐতিহ্য, সম্প্রীতি এবং প্রতœতাত্ত্বিক গুরুত্ববাহী এই ঐতিহাসিক স্থানটি প্রভাবশালী পাথর সিন্ডিকেটের আগ্রাসনে বিলীন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাফলংয়ের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা বা ইসিএভুক্ত ‘মন্দিরের জুম’ ও জুমপাড় সংলগ্ন স্থানে রাতের আঁধারে এবং প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের বেলাতেও চলছে পাথর উত্তোলনের মচ্ছব। নিষিদ্ধ ‘বোমা মেশিন’, এক্সকেভেটর ও পেলোডার ব্যবহার করে মাটির গভীর থেকে অবাধে পাথর তুলতে গিয়ে মন্দির চত্বরের চারপাশে তৈরি হয়েছে বিশাল বিশাল বিপজ্জনক গর্ত। এতে মন্দির এলাকা ও চারপাশের মাটির ভিত্তি আলগা হয়ে মারাত্মক ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্দির পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, এই প্রাচীন মন্দিরটি কেবল ধর্মীয় উপাসনালয় নয়; খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ি জনপদের শত শত বছরের ঐতিহাসিক স্মৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক। সম্প্রতি পাথরখেকোদের লাগামহীন খোঁড়াখুঁড়ির কারণে মন্দিরের আঙিনা ও মূল কাঠামোর নিচে বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মন্দিরের সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়েছে এবং উপাসনালয়ের বেশ কিছু অংশ বিলীন হয়ে গেছে। একই সাথে আশপাশের সুপারি বাগান, পাহাড়ি টিলা ও ফসলি জমিও গভীর খাদের পেটে চলে যাচ্ছে।
মন্দির কমিটির দায়িত্বশীল মামার বাজার পাথর টিল্লা কালী মন্দির পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অংশু গোসাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘকাল ধরে আমাদের পূর্বপুরুষরা এই মন্দির রক্ষা করে এসেছেন। অথচ চোখের সামনে গুটিকয়েক অর্থলোভী পাথরখেকো চক্রের দানবীয় আগ্রাসনে শত শত বছরের ঐতিহ্য আজ ধূলিসাৎ হতে বসেছে। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পুরো স্থাপনাটি চিরতরে মাটির নিচে তলিয়ে যাবে।
এদিকে, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ধর্মীয় নিদর্শন ধ্বংসের এমন ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল, পরিবেশবাদী সংগঠন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় টাস্কফোর্সের অভিযানে কয়েকটি মেশিন জব্দ বা জরিমানা করা হলেও মূল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। অভিযান শেষ হতে না হতেই চক্রটি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, জাফলংয়ের ইসিএভুক্ত এলাকা ও ধর্মীয় স্থাপনার ক্ষতি করে অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও টাস্কফোর্সের অভিযানের পাশাপাশি জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঐতিহাসিক এই কালী মন্দির এবং জাফলংয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরটি সংস্কারে জরুরি সরকারি পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




