জগন্নাথপুর বাজারে পথশিশুদের ভিড়, পেছনের নেপথ্য কারা, উঠেছে প্রশ্ন
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন

জগন্নাথপুর বাজারে পথশিশুদের ভিড়, পেছনের নেপথ্য কারা, উঠেছে প্রশ্ন

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩/১১/২০২৬ ০৭:০৭:২৯ অপরাহ্ন

জগন্নাথপুর বাজারে পথশিশুদের ভিড়, পেছনের নেপথ্য কারা, উঠেছে প্রশ্ন

সংগৃহীত


সকাল থেকে গভীর রাত— সুনামগঞ্জপর জগন্নাথপুর বাজারের অলিগলি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে প্রতিনিয়ত ঘুরছে একদল পথশিশু। পরনে ময়লাযুক্ত ছেঁড়া কাপড়, হাতে কিছু খুচরো পয়সা আর চোখেমুখে ক্লান্তি নিয়ে দোকান ও পথচারীদের কাছে হাত পাতছে তারা। পেটের ক্ষুধা মেটাতে খাবার আর কিছু টাকার খোঁজে এভাবেই দিন-রাত এক করে ছুটছে ৭ থেকে ১০-১১ বছর বয়সী এই নিষ্পাপ শিশু ও কিশোরীরা।

তবে এদের উপস্থিতি ঘিরে বাজারে তৈরি হয়েছে নানা রহস্য ও কানাঘুষা। স্থানীয়দের মনে এখন বড় প্রশ্ন—আসলে এরা কারা? কোথা থেকে এলো এই শিশুরা? নিতান্তই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের তাড়নায় তারা পথে নেমেছে, নাকি কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বা অদৃশ্য হাত এদের দিয়ে জোরপূর্বক এই ভিক্ষাবৃত্তি পরিচালনা করছে?

বাজারে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায় অদ্ভুত এক চিত্র। কোনো পথচারী কিংবা সংবাদকর্মী মোবাইল ফোন হাতে নিলে কিংবা ক্যামেরা তাক করলেই ভিডিও ধারণের ভয়ে এক দৌড়ে লুকিয়ে পড়ছে শিশুরা। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ভয় ও অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কারণেই হয়তো ক্যামেরা দেখলেই তারা এভাবে আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে' সংবাদকর্মী’ এর বিশেষ টিম দীর্ঘ সময় নিয়ে তাদের ভয় ভাঙানোর উদ্যোগ নেয়। পরম স্নেহ ও মমতায় তাদের খাইয়ে, আশ্বস্ত করে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তাদের সাথে কথা বলে উঠে আসে এক করুণ বাস্তবতার চিত্র। কারো পরিবার চরম দরিদ্র, কারো আবার সঠিক কোনো অভিভাবকত্ব নেই। তবে তাদের এই পরিস্থিতির পেছনে কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ বা ইন্ধন রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তারা স্পষ্টভাবে কিছু বলতে ভয় পাচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জগন্নাথপুর বাজারের মতো একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এত অল্প বয়সী শিশুদের গভীর রাত পর্যন্ত এভাবে ঘুরে বেড়ানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এরা যে কেবল শৈশব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা-ই নয়, গভীর রাতে বিভিন্ন অপরাধ ও অনৈতিক ঝুঁকির মুখেও পড়ছে। প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন—যাতে এদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি পেছনের কোনো অপতৎপরতা থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করা যায়।

জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা