সংগৃহীত
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে সরকারি ভর্তুকির ট্রাক্টরের দাম বাড়িয়ে বলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘটিত এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ইছাকলস গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা নিকটবর্তী ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে হালচাষের একটি ট্রাক্টর নেন ইছাকলস মাটিভুইটিলার রহিম উদ্দিন। সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপজেলা পরিষদ মাঠে উপস্থিত থেকে এই ট্রাক্টরটি হস্তান্তর করেছিলেন। ট্রাক্টরটির জন্য রহিম উদ্দিন ভর্তুকি মূল্যে ৫ লক্ষ ৪৫ হাজার ৪০০ টাকা পরিশোধ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, কৃষি অফিস থেকে হালচাষের ট্রাক্টর নেওয়ার জন্য ৩০ জনের একটি সমবায় সমিতি গঠন করা হলেও ট্রাক্টরটি আনার পর রহিম উদ্দিন সমিতির অন্য সদস্যদের বিষয়টি জানাননি। পরে সদস্যরা লোকমুখে জানতে পেরে কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন। এরপর সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে ট্রাক্টরের মূল্য আদায় করা নিয়ে রহিম উদ্দিনের সাথে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।
এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গতকাল সোমবার বিকেলে ইছাকলস গ্রামে এক শালিস বৈঠক বসে। বৈঠকে রহিম উদ্দিন দাবি করেন যে, ট্রাক্টরটি তিনি ১১ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছেন। তাঁর এই দাবির প্রতিবাদ জানান সমিতির সদস্য মোস্তাক আহমদ, শফিক, সোহেল ও গণিসহ অন্য সদস্যরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ধন মিয়া জানান, "সংঘর্ষের আগপর্যন্ত আমি ওই বৈঠকে ছিলাম। সেখানে ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে নেওয়া ট্রাক্টরের মূল্য সমিতির ৩০ জন সদস্যের মাঝে সমশেয়ারে ভাগ করে রহিম উদ্দিনকে পরিশোধ করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল। তবে আমি বৈঠক থেকে চলে আসার পর ঠিক কী কারণে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে, তা আমার জানা নেই।"
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গনী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভর্তুকির ট্রাক্টরের দাম অতিরিক্ত চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা




