মানবতার দেয়ালে সেখানে ঝুলানো রয়েছে ছোট-বড় কাপড়।
‘মানবতার দেয়াল’ ২ফুট বাই ৭ ফুট লম্বা একটা ডিজিটাল ব্যানারে লেখা আছে ‘দিতে গর্ব নাই নিতে লজ্জা নাই’ একটি মহৎ উদ্যোগে আপনাকে স্বাগতম। আবার একসাইটে এটাও লেখা আছে ‘আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস এখানে দিয়ে যান অন্যপাশে লেখা লেখা আছে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস এখানে থেকে নিয়ে যান।’ আপনার আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় হতে পারে অপরের হাসি। এমনই একটা মহৎ উদ্যোগ নিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার চা শ্রমিক ও অসহায় দুস্থ মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে এই ‘মানবতার দেয়াল’।
চায়ের রাজ্যে চলতি মৌসুমে হাড় কাঁপানো শীতে মানবতার দেয়ালের প্রতি ঝোঁক বেড়েছে হতদরিদ্র মানুষদের। কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা চা বাগানে সমাজসেবক ও ইউপি সদস্য বাবু ধনা বাউরীর প্রচেষ্টায় মানবতার দেয়ালে ঝুলছে অন্যের রেখে যাওয়া কাপড়। ঝুলিয়ে রাখা কারো অপ্রয়োজনীয় কাপড়ে স্বস্তি খুঁজে নিচ্ছেন সমাজের নিম্নবিত্তের মানুষেরা।
নতুন বছরের শুরুতে সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মিরতিংগা চা বাগানে সমাজসেবক ও ইউপি সদস্য ধনা বাউরীর ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সামনে মানবতার দেয়ালের কাছে গেলে দেখা যায়,অনেকগুলো ছোট বড় কাপড় সেখানে ঝুলানো রয়েছে। নিচে রয়েছে আরো অনেক কাপড়-চোপর। এ সময় দেখা যায়, কয়েকজন শীতার্ত মানুষ সেখান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় কাপড় সংগ্রহের চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কেউ রেখে তাদের অপ্রয়োনীয় পুরানো কাপড় সাথে ভালো কাপড় গুলো রেখে যাচ্ছেন। হতদরিদ্র শীতার্তদের চোখে দেয়াল থেকে নেওয়া কাপড়ই যেন ছড়াচ্ছে মানবতার উষ্ণতা।
স্থানীয়রা কয়েকজন বৃত্তবান বলেন, ‘মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহারের অতিরিক্ত এবং অপ্রয়োজনীয় কিন্তু ব্যবহারযোগ্য অনেক পোশাক আমাদের ঘরে অকারণে এবং অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। এই পোশাকগুলো যদি এখানে জমা দেয়া হয় তাহলে চা শ্রমিক সহ সকল শ্রেনিপেশার শীতার্ত মানুষের উপকৃত হবে।’
কাপড় সংগ্রহ করতে আসা চা শ্রমিক রাজভর অমলিক এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘আমরা দিনদু:খি মানুষ শীত আইলে অনেক কষ্ট করি থাকা লাগে। সপ্তাহ শেষে যে টেকা পাই, তা দিয়া কোনোমন্তে সংসার চালাইলাই। ৭ জনর সংসারও আমি একলা রোজগারী। ছেলে মেয়েকে স্কুলে পড়ে তাদের পড়ালেখার পয়সাও জোগানী লাগে আবার সংসারও চালানো লাগে। জিনিষ পত্রের যে দাম কিছু হয়না আমাদের। খুব কষ্টে দিন কাটাই। এখন শীতকাল। শীতে ভালা গরম কাপড় কিনতাম পারিনা। মাইনষে কইল ওউ ওয়াল থাকি টেকা পয়সা ছাড়া কাপড় নেয়া যাইবো তাই আইছি। দেখি আমার বাচাকাচ্চার লাগি কিচ্ছু নিতাম পারিনি। আমরার লাগি যারা এত সুন্দর একটা মহান কাজ করছইন তারার লাগি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবো।’
‘মানবতার দেয়াল’ সম্পর্কে জানতে চাইলে সমাজসেবক ও ইউপি সদস্য ধনা বাউরী বলেন,‘আমার সাধ্যমত আমি সবসময় চা শ্রমিক ছাড়াও সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে সহযোগীতা করি। আজ মানবেতার দেয়াল তৈরি করে সমাজের চা শ্রমিক, দরিদ্র ও হতদরিদ্র অবহেলিত মানুষের জন্য কিছু করতেই আমার এই সামান্য ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমি আশা করি সমাজের বৃত্তবান মানুষেরা তাদের অপ্রয়োজনীয় জামাকাপড় এ সব দেয়ালে রেখে যাবেন। তিনি বলেন, শীতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ নারী-পুরুষেরা ও চা শ্রমিকরা কষ্ট পান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে। সারা দেশের পাড়া–মহল্লায় যদি তরুণেরা একটি করে ‘মানবতার দেয়াল’ গড়ে তোলেন, তাহলে শীতে গরিব লোকজনকে ততটা কষ্টে পড়তে হবে না ’
জৈন্তাবার্তা/জেএ




