আমরা কারো গোলাম না যে যার কারণে মেয়ে হত্যার বিচার পাব না: তনুর মা
শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৮ AM

আমরা কারো গোলাম না যে যার কারণে মেয়ে হত্যার বিচার পাব না: তনুর মা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০/০৩/২০২৪ ০৪:২৩:০৬ AM

আমরা কারো গোলাম না যে যার কারণে মেয়ে হত্যার বিচার পাব না: তনুর মা

ছবি : সংগৃহীত


সোহাগী জাহান তনু। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী। ২০১৬ সালে ধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যু হয় তার। কুমিল্লা সেনানিবাসের জঙ্গলে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। বুধবার সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের আট বছর। এই আট বছরেও তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার সাথে সম্পৃক্তদের চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ বা অন্য কোন সংস্থা। এদিকে গত তিন বছর তনুর পরিবারের খবর নেয়নি কেউই। এ অবস্থায় বিচার পাবার আশা ছেড়ে দিয়েছেন তনুর বাবা-মা।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পিবিআই ঢাকায় বসে বসে বক্তৃতা দেয়। আমাদের ডেকে পাঠিয়ে উল্টো হয়রানি করে। আমরা গরিব। তাই বলে আমরা কারো গোলাম না যে যার কারণে মেয়ে হত্যার বিচার পাব না। তাকে অনেক কষ্ট করে লালন করেছি। কী বেদনা নিয়ে বেঁচে আছি, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।

তিনি বলেন, কলিজার টুকরাটাটা কবরে। তাকে ছাড়া ঈদ কিভাবে করবো? এ হত্যাকাণ্ডের বিচার যদি দুনিয়ায় না হয়, আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রাখলাম। আল্লাহর বিচার বড় বিচার।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন জানান, তনুর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুই মসজিদে দোয়া ও এতিম শিশুদের ইফতারের আয়োজন করছি।

বিচার না পাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, আমি আর বিচার চাই না। বিচার চেয়ে কী লাভ? গরিবের ওপর জুলুমের বিচার হয় না।

তনুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফিরেনি তনু। পরে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার অদূরে সেনানিবাসের ভেতর একটি জঙ্গলে তনুর মরদেহ পায়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবির পর ২০১৬ সালের ১এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি কুমিল্লা। তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। সর্বশেষ সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর মধ্যে ২০২০ সালের নভেম্বরে মামলাটির দায়িত্ব পিবিআইকে দেওয়া হয়। পিবিআই ঢাকার একটি টিম দায়িত্ব পাওয়ার শুরুর দিকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ঘুরে যান।

২০২৩ সালের ৮ আগস্ট তনুর খালাতো বোন লাইজু জাহানের সাক্ষ্য নেয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়। নির্ধারিত সময়ে তনুর বাবা-মা ও ভাইসহ লাইজু জাহান কুমিল্লা পিবিআই কার্যালয়ে হাজির হওয়ার পর তাদের জানানো হয় তদন্ত কর্মকর্তা অসুস্থ, তাই সাক্ষ্য গ্রহণ স্থগিত করা হয়। মামলায় সাক্ষ্য দিতে লাইজু তার সিলেটের স্বামীর বাড়ি থেকে একদিন আগে কুমিল্লায় পৌঁছেন। পূর্ব নির্ধারিত সময়ে লাইজু, তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম ও তনুর ছোট ভাই রুবেল হোসেন কুমিল্লার নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় পিবিআই অফিসে পৌঁছেন। পরে তাদের জানানো হয় তদন্ত কর্মকর্তা অসুস্থ, তাই সাক্ষ্য নেয়া হচ্ছে না। এরপর অন্ধকারে ঢাকা পড়ে মামলার কার্যক্রম।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মজিবুল হক জানান, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা আসামিদের শনাক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে রহস্য বের হতো, তাদেরকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। পরিবারের প্রতিটি সদস্য ও আত্মীয়স্বজন এমনকি শিক্ষকরাও সাক্ষ্য দিয়েছে, আর কী বাকি রইল?

জৈন্তাবার্তা/জেএ



শীর্ষ সংবাদ:

প্রেম, সম্পত্তির পর এবার চু*রির মোটিভ:হ*ত্যাকা*ণ্ডের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো প্রশ্ন
গ্রিন-ক্লিন সিলেট গড়তে জলাশয় পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: সিসিক প্রশাসক
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শপথ শুক্রবার
চুনারুঘাটে বিএনপির ৬২ নেতাকর্মীর বি'রুদ্ধে মা'মলা
সিলেটে হা'মের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃ'ত্যু
সাতছড়ি বন থেকে পি'স্ত'ল, ম্যা'গা'জিন ও গু'লি উ'দ্ধার
বিশ্বনাথে মশাল মি*ছিলের ঘ*টনায় তো*লপাড়, গ্রে*প্তার সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ২
জনদু*র্ভোগ কমাতে অবকাঠামো উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছি: সিসিক প্রশাসক
রায়নগর হ*ত্যাকা*ণ্ড: বাবুলের রি*মান্ড শেষ, সামনে নতুন প্রশ্ন
বাসযোগ্য নগরী গড়তে জলাশয় উদ্ধারে গুরুত্ব দিচ্ছি: কাইয়ুম চৌধুরী