বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা হোক
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ১১:০৯

র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা হোক

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩/০৬/২০২৪ ০৩:৪৬:২০

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা হোক


বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, র‌্যাংকিংয়ের দিক থেকে এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। এই র‌্যাংকিংয়ের একটি বড় ক্রাইটেরিয়া হলো গবেষণা ও গুণগত মানের গবেষণাপত্র প্রকাশ। গবেষণা কার্যক্রমে পিছিয়ে থাকার কারণেই র‌্যাংকিংয়ে আসতে পারছে না দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিশ^বিদ্যালয়গুলো। প্রশ্ন উঠছে পড়াশোনার মান নিয়েও।  

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কল্যাণে পৃথিবী গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি গ্লোবাল পরিমণ্ডলের একটি অংশ। সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আমাদেরও একই গতিতে চলতে হবে। ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম বাংলাদেশে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভোকেশন বক্তৃতায় বলেছিলেন দেশের আভিজাত্যের বহিঃপ্রকাশ বোঝা যায় সেই দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যেক বছর কতগুলো গুণগতমানসম্পন্ন গবেষণাপত্র প্রকাশ হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় তথা উচ্চ শিক্ষার আধুনিক গবেষণার কনসেপ্ট আমাদের দেশে প্রবর্তন হয় ব্রিটিশ শাসনামলে। এ উপমহাদেশে প্রথম ১৮৫৭ সালে ২৪ জানুযারি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। তারও ৬৪ বছর পর ১৯২১ সালে আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গোড়াপত্তন ব্রিটিশদের হাতেই। আর পাকিস্তান শাসন আমলের ২৩ বছরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়Ñরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৫৩), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬১), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৬) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭০)। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৮। অথাৎ ব্রিটিশের সময় একটি এবং পাকিস্তানের সময় পাঁচটি মোট ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় বাদ দিলে স্বাধীনতার ৫৪ বছরে ৫২টি সরকারি ও ১১৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখন এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মান বিবেচনায় ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সময় খুবই প্রণিধানযোগ্য। এত দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান কি বাড়ছে না কমছে তা আমাদের সবারই জানা। 

সময়ের ব্যবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা গাণিতিক থেকে জ্যামিতিক হারে বাড়লেও গুণগত মানে কি পরিবর্তন হয়েছেÑতা সবারই জানা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো গবেষণা ও গবেষণালব্ধ ফলাফল দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তি হবেন এবং মুক্ত জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে সমাজ ও মানবজাতির উন্নয়ন প্রগতিশীল সব দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। দেশে এখন বিভিন্ন ক্যাটাগরির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জেনারেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিভিল এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়, মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখনো পাবলিক হেলথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয়টি উল্লেখ আছে। আশা করছি, অচিরেই তা বাস্তবায়ন হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংখ্যিক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গুণগত বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে না পারলে জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে মাথা হেট হতে বাধ্য। যখন এমআইটি বা কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় উঁচুমাথায় বলবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার জন্য কতগুলো নোবেল অর্জন করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও একইভাবে গর্বভরে যখন বলবে আমাদের গবেষণায় বিশ্বের প্রগতিতে এ ভূমিকা রেখেছে। 

বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভূত গবেষণার ফলাফলে আমরা অনেকগুলো সূচকে বিশ্বদরবারে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছি। জাতিসংঘ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সেরেস উপাধিতে ভূষিত করেছেন। আমরাও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ উৎপাদনেও বিশ্বের তালিকায় আমরা শীর্ষের দিকে অবস্থান করছি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় জ্ঞান আর মেধা চর্চার জায়গা যদি অন্যকিছুতে রূপান্তরিত হয়, তবে তা হবে জাতি হিসেবে বড়ই দুর্ভাগ্যের। 

আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুনির্দিষ্ট গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। গবেষণা কার্যক্রম জোরদার হলে বাড়বে মানও। আমাদের বিশ^বিদ্যালয়গুলোর মাধ্যমে উপকৃত হবে বিশ^ও। আমরা হয়ে উঠব সোনার মানুষ, আর বাংলাদেশ হবে সোনার বাংলা। 

এলএইচ


This is the free demo result. For a full version of this website, please go to Website Downloader