ছবি নিজস্ব
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার হাওরে ফসলের মাঠজুড়ে শুধু সবুজ ধানের চারা। যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজের সমারোহ। ফসলের মাঠ যেন সবুজ চাদরে ঢাকা। মাঠে মাঠে হাওয়ায় দুলছে আমন ধানের সবুজ পাতা। আর সেই সঙ্গে আনন্দে দুলছে কৃষকে মন। কৃষকের মনে উঁকি দিচ্ছে এক ভিন্ন আমেজ। সবুজঘেরা রোপা আমনের মাঠ দেখে বারবার ফিরে তাকান কৃষক, থমকে দাঁড়ান পথিক। আর কিছুদিনের মধ্যেই সোনালি ধানের শীষে ঝলমল করবে মাঠের পর মাঠ। রাশি রাশি সোনালি ধানে ভরে উঠবে কৃষকের শূন্য গোলা।
এবার মৌসুমের শুরু থেকেই রোপা আমন লাগাতে কৃষকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আষাঢ় মাসের মাঝামাঝিতে আমন ধান চাষ করার নিয়ম থাকলেও বন্যার আক্রমণ এবং পানি নামতে দেরি হওয়ায় তা করতে পারেননি কৃষকরা। ধান রোপণে বিপাকে পড়তে হয় কৃষকদের। দেরিতে বন্যার পানি নামলেও ইতোমধ্যে আমন রোপণ লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ না হয়ে ২০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ কম করা হয়েছে।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ৭৭০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০০ হেক্টর কম জমিতে চাষ করা হয়েছে বন্যার কারণে।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক রুবেল ও আরও অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো বৃষ্টি হওয়ার কারণে রোপা আমন ধানের চারাগুলো দেখে মনে হচ্ছে এ বছর ধানের ফলন ভালো হবে। তারা বেশ লাভবান হওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন। ভালোভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারলে তাদের সারা বছরের খাদ্যের চাহিদা পূরণ হবে বলেও জানান তারা।
উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকায় আমন ধানের মাঠে সবুজের সমারোহ। প্রতিটি ক্ষেতে ধানের চারা উঁকি দিচ্ছে। কৃষকরা তাদের ধানের জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. লুৎফে আল মঈজ জানান, এ বছরের রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ৭৭০০ হেক্টর। তবে বন্যা হওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০০ হেক্টর কম জমিতে আবাদ হয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এ বছর আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় আমনের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত মাজরা পোকা ও বাদামি ফড়িং এবং গোড়া পঁচা রোগসহ ধানে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ এখন পর্যন্ত হয়নি। এতে কৃষকদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এছাড়া কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় যথাসময়ে জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




