বিয়ানীবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে ভিক্ষুকদের উৎপাত বেড়েছে
সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌর শহরে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পৌরসভা। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) শহরে মাইকিং করে ভিক্ষাবৃত্তির উপর এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানায় পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে জানানো হয়, এখন থেকে কেবল প্রতি বৃহস্পতিবার স্থায়ী ও প্রকৃত ভিক্ষুকরা পৌরসভার ভেতর ভিক্ষা করতে পারবেন।
জানা যায়, প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে ভিক্ষুকদের উৎপাত বেড়েছে। টাকা না দিলে ভিক্ষুকদের হাতে অনেককে লাঞ্ছিত হতে হয় বলেও অভিযোগ আছে।
বিয়ানীবাজার সমাজসেবা অফিসের হিসেব মতে, উপজেলায় ভিক্ষুকের সংখ্যা হাজারখানেক। তবে পৌরসভায় স্থায়ী ভিক্ষুকের সংখ্যা খুবই কম। পৌর এলাকাসহ পুরো উপজেলায় যারা ভিক্ষা করেন তাদের বেশীরভাগই বাইরে থেকে আসা। স্থায়ী ভিক্ষুকদের পুনবার্সন করতে কাজ করছে বিয়ানীবাজার সমাজ সেবা অফিস।
বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র ফারুকুল হক জানান, বিয়ানীবাজারের বেশীর ভাগ মানুষ দেশের বাইরে থাকার কারনে অনেক বাড়ি ফাঁকা থাকে। সেই সুযোগে এসব ভিক্ষুকরা এসব বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটায়।
তিনি বলেন, এখন থেকে সপ্তাহে একদিন কেবল স্থানীয় ভিক্ষুকরা পৌর এলাকায় ভিক্থা করতে পারবেন। বহিরাগত এবং পেশাগত ভিক্ষুকদের বিদায় করতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, মাইকিং করার পর ও যদি এখন থেকে কোন ভিক্ষুক পৌরশহর বা পৌরসভার মধ্যে ভিক্ষা করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্তা গ্রহণ করা হবে। স্থায়ী কোন ভিক্ষুক থাকলে তাদের পুনবার্সন করা হবে। তবে ভিক্ষা করতে দেয়া যাবে না। তিনি জানান, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার চাচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশে কোন ভিক্ষুক থাকবে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব বলেন, বিয়ানীবাজারে স্থায়ী ভিক্ষুকের সংখ্যা খুব কম। বেশীর ভাগ ভিক্ষুকের বাড়ি সিলেটের বাইরে বিভিন্ন জেলায়। এসব ভিক্ষুকরা ভিক্ষাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে। কেউ টাকা না দিলে অনেক সময় মানুষজনহেনস্তা করে, খারাপ আচরন করে। আমরা ভিক্ষুকদের বিভিন্ন ভাবে পুনবার্সন করছি। স্থায়ী কোন ভিক্ষুক থাকলে তাদেরকে সমাজ সেবা অফিসের মাধ্যমে পুনবার্সন করা হবে।
ডি ডি




