ছবি: নিজস্ব
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকার পাশাপাশি রোগ-বালাই কম হওয়ায় পাকা ধানের শীষে যেন দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। এই মুহ‚র্তে মাঠে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে পুরোদমে ব্যস্ত রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এসব এলাকায় ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকদের কর্মব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে সঠিক সময়ে চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ছিটানোসহ নিয়মিত পরিচর্যা করেছেন তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এ বছর ২ হাজার ১৫৬ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে। ফলন হয়েছে ২ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে। এতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ২৪৬ মেট্রিক টন। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩৯ হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েছে। কম্বাইন হারভেস্টারে দ্রæত ধান কাটতে পারায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।
জয়কলস ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উমায়েদ নূর বলেন, আমন রোপনের পর থেকেই ভালো ফলনের জন্য কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সার্বক্ষণিক পাশে আছি আমরা। এবার আমার জয়কলস ইউনিয়সহ উপজেলায় সর্বত্র উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন হয়েছে।
উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের কৃষক সেজু মিয়া জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় ৩৬ মণ ধান পেয়েছেন। এখন সেই জমিতে তিনি সরিষা চাষ করবেন।
কান্দিগাঁও গ্রামের আরেক কৃষক শহিদ মিয়া বলেন, ১০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। ইতোমধ্যে কিছু জমির ধান কেটে ঘরে তুলেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি ধান কাটা শেষ করতে পারব। আবহাওয়া অনুক‚লে ছিল আর পোকা-মাকড় ধানের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। আশা করি লাভবান হবো।
এ ব্যাপারে শান্তিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, চলতি রোপা আমন মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। অল্পদিনে রোপা আমন ধান ঘরে ওঠার ফলে কৃষকরা সহজেই সরিষা চাষে যেতে পারবেন। আশা করি আগামীতে এ উপজেলায় রোপা আমন ধানের আবাদ আরও বাড়বে।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




