ছবি: নিজস্ব
সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মজলিশপুর গ্রামের সরকারি পুকুরপাড়ের রাস্তাটিতে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকার নোংরা পানি এসে জমে থাকে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। আর এই নোংরা পানি মাড়িয়েই নামাজে যেতে হয় মুসল্লিদের। সম্প্রতি এ থেকে পরিত্রাণ পেতে পৌর প্রশাসক বরাবর পানি নিষ্কাশনে ড্রেন নির্মাণের জন্য আবেদন করেছেন স্থানীয়রা।
আবেদন সূত্রে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারি পুকুরপাড়ের রাস্তাটির মুক্তিযোদ্ধা সালাম মিয়ার বাড়ি থেকে তোফায়েল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত অংশে পানি নিষ্কাশনের জন্য পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পরেও এখন পর্যন্ত কোনো ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। বিগত বছরগুলোতে পরিত্যক্ত জায়গার উপর দিয়ে রাস্তার পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্তু ওই জায়গাটি মাটি দিয়ে ভরাট করার পর থেকে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে করে এলাকাবাসীকে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এলাকার বাড়িঘর, ছোট-বড় গর্তের নোংরা পানি বৃষ্টি হলেই রাস্তায় নেমে আসে। আর এই নোংরা পানির উপর দিয়ে হেঁটে মুসল্লিদের নামাজে যেতে হয়। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদেরও এই পানির উপর দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। ড্রেন না থাকায় বাসা-বাড়িতে ব্যবহারের পানি নিষ্কাশনেও পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। অনেকে বাধ্য হয়ে গোসলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছেন ট্যাংকির মাধ্যমে। এতে অল্প দিনে ট্যাংকি ভরে পড়তে হচ্ছে জটিল সমস্যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ সর্দার বলেন, বর্ষার সময় এই রাস্তার নোংরা পানি এড়িয়ে নামাজে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই আগামী বর্ষা আসার আগেই এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা পৌর প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি।মো. আব্দুছ ছাদিক বলেন, এই রাস্তাটিতে ড্রেন নির্মাণ করা যে কতটা জরুরি তা বলে বোঝাতে পারবো না।দিগেন্দ্র দেবনাথ বলেন, বাসার প্রয়োজনীয় কাজ ও গোসলের পানির জন্য আমি আলাদাভাবে একটা ট্যাংকি করেছি। কিন্তু দুইদিন পরপর সেটা পানিতে ভরে গিয়ে কি যে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়! এখানে সবাই বাসা ভাড়া করে থাকে, সবার জায়গাও কম। তাই পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ খুবই জরুরি। আজাদ মিয়া বলেন, বৃষ্টির দিন এলেই আমার দোকানের সামনে সবসময় নোংরা পানি জমে থাকে। সরকারি পুকুরপাড় থেকে ঘাগটিয়া সড়ক পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ অত্যন্ত প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) অভিজিৎ সূত্রধর বলেন, আবেদন যেহেতু করা হয়েছে আগে ইঞ্জিনিয়ার যাক। অথবা আমি নিজেও যেতে পারি। যদি ছোট ড্রেন হয়, অল্পতে হয়ে যায়, তাহলে আমরা নতুন প্রকল্পে দিয়ে দেবো। আর যদি বড় ড্রেন হয়, তাহলে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে। আগে আমরা দেখি। দেখে গুরুত্বসহকারে পরিকল্পনা করবো কী করা যায়।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




