ছবি: নিজস্ব
দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তিতে ভুগতে থাকা সবজির বাজারে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে। শীতের মৌসুম শুরু হয়ে গেলেও বাজারে কমছিল না সবজির দাম। এতে বেশখানিকটা চাপের মধ্যেই ছিলেন ভোক্তারা। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য তা ছিল ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’। তবে এই সপ্তাহে এসে অনেকটাই কমেছে সবজির দাম। একইসঙ্গে কমেছে সব ধরনের আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দামও। তবে এসব পণ্যের দাম কমলেও বেড়েছে মুরগির মাংসের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, নতুন বছরের আগমনকে কেন্দ্র করে মাংসের দাম ঊর্ধ্বমুখী।
অন্যদিকে দাম বাড়ানোর প্রায় তিন সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখনও স্বাভাবিক হয়নি সয়াবিন তেলের বাজার। তেলের কোম্পানিগুলোকে অর্ডার দিয়েও তেল পাচ্ছেন না অভিযোগ করে বিক্রেতারা বলছেন, তাদের ঘোরানো হচ্ছে। রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদর কাঁচাবাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় এই চিত্র।
শীতকালীন সবজি আসা শুরু করেছিল আরও কয়েক সপ্তাহ আগেই। তবে নতুন সবজির আগমনেও সেভাবে কমছিল না দাম। তবে এই সপ্তাহে এসে বাজারে সব ধরনের সবজির দামই কমেছে। এতে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে জনমনে।
আজকে বাজারে টমেটো ১০০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৫০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ টাকা, শিম ৫০-৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৫০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৬০ টাকা, কালো গোল বেগুন ৭০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা, উচ্ছে ৭০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, লাল মুলা ৪০ টাকা, শালগম ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটোল ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, পেঁয়াজকলি ৬০ টাকা, গাছসহ পেঁয়াজ ৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, ধনেপাতা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৮০ টাকা, চাল কুমড়া ৮০ টাকা, ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি হালি কাঁচা কলা ৩০ টাকা, প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা করে।
এক্ষেত্রে গত সপ্তাহের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, আজ প্রতিকেজিতে টক টমেটোর দাম কমেছে ২০-৩০ টাকা, কাঁচা টমেটোর দাম কমেছে ২০ টাকা, শিমের দাম কমেছে ২০ টাকা, লম্বা বেগুনের দাম কমেছে ১০ টাকা, সাদা গোল বেগুনের দাম কমেছে ১০ টাকা, কালো গোল বেগুনের দাম কমেছে ১০ টাকা, শসার দাম কমেছে ৫-২০ টাকা, উচ্ছের দাম কমেছে ৩০ টাকা, করলার দাম কমেছে ২০ টাকা, লাল মুলার দাম কমেছে ২০ টাকা, ঢেঁড়সের দাম কমেছে ২০ টাকা, পটোলের দাম কমেছে ১০ টাকা, চিচিঙ্গার দাম কমেছে ১০ টাকা, ধুন্দলের দাম কমেছে ২০ টাকা, ঝিঙার দাম কমেছে ২০ টাকা, কচুরমুখীর দাম কমেছে ২০ টাকা, কাঁচা মরিচের দাম কমেছে ২০ টাকা। তবে প্রতি কেজিতে ধনেপাতার দাম বেড়েছে ৪০-৬০ টাকা এবং হালিতে কাঁচা কলার দাম বেড়েছে ৫ টাকা। এছাড়া অন্যান্য সবজির দাম রয়েছে অপরিবর্তিত।
জগন্নাথপুর বাজারের তাজ উল্লাহ সবজি ভাণ্ডারের আড়তদার সেলন ভাণ্ডারী বলেন, এখন বাজারে সবজি বেশি আসছে বলেই দাম অনেকটাই কমেছে। আর এই অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে সবজির দাম শিগগিরই আর বাড়বে না।আসাদ চৌধুরী নামের এক ক্রেতা বলেন, অনেক দিন পরে মনে হয় কম দামে সবজি পাচ্ছি। এর থেকে যেন আর দাম না বাড়ে। আর কমলে তো আরও ভালো।
আরেক ক্রেতা রিয়াদ আহমদ বলেন, দাম কমাতে ধনী-গরিব সবারই উপকার। যত দাম কমবে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ততই উপকার হবে। তাই সরকারের এদিকে নজর দেওয়া উচিত। এদিকে আজকে বাজারে প্রতি কেজি ক্রস জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এর মধ্যে ছোট ও বড় সাইজের পেঁয়াজ একই দামে বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকা, নতুন দেশি পেঁয়াজে ৫০-৬০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা করে প্রতিকেজি।
এদিকে আজকে বাজারে প্রতিকেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, নতুন লাল আলু ৫৫ টাকায়। আর পুরাতন লাল আলু ৫০ টাকা, সাদা আলু ৫০ টাকা, নতুন বগুড়ার আলু ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আজকে দেশি রসুন ২৪০ টাকা, চায়না রসুন ২২০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, নতুন ভারতীয় আদা ১২০ দরে বিক্রি হচ্ছে।
এক্ষেত্রে গত সপ্তাহের সঙ্গে তুলনায় করলে দেখা যায়, নতুন দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ২০-৩০ টাকা করে এবং ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কমেছে ২০ টাকা করে। এছাড়া পুরাতন দেশি পেঁয়াজের ও ক্রস জাতের পেঁয়াজের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। এদিকে আজকে মানভেদে প্রতিকেজি নতুন দেশি আলু, পুরাতন সাদা ও লাল আলুর দাম কমেছে ১০ টাকা করে। আর নতুন বগুড়ার আলুর দাম কমেছে ২০ টাকা করে। এছাড়া প্রতি কেজিতে চায়না আদার দাম কমেছে ২০ টাকা। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত।
আলু পেঁয়াজের বিক্রেতা শামীম বলেন, নতুন আলু পেঁয়াজ বাজারে ক্রমাগত আসতে থাকায় এগুলোর দাম কমেছে। তবে আলু পেঁয়াজ আরও যখন পরিপক্ব হবে তখন দাম বাড়লেও বাড়তে পারে।।নতুন বছরকে স্বাগতম জানাতে মানুষ ৩১ ডিসেম্বর রাতটিকে বিভিন্নরকমভাবে উদযাপন করে থাকেন। চলে পার্টি ও খাওয়া-দাওয়া। আর এই সময়েই সাধারণত বেড়ে যায় মুরগির মাংসের দাম। কেননা তখন মুরগির মাংসের চাহিদা থাকে বেশি। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি; নতুন বছরের আগমনকে কেন্দ্র করে বাড়ছে মুরগির মাংসের দাম।
আজকে বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া আজ ওজন অনুযায়ী ব্রয়লার মুরগি ২০০-২১০ টাকা, কক মুরগি ৩৪৩-৩৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০ টাকা এবং সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকায়।
এক্ষেত্রে দেখা যায়, আজ প্রতিকেজিতে ব্রয়লার (দেড় কেজির বেশি ওজনের) মুরগি দাম বেড়েছে ১০ টাকা, কক মুরগির (এক কেজির বেশি ওজনের) দাম বেড়েছে ২৩ টাকা। এছাড়া গরুর মাংস, খাসির মাংস, দেশি মুরগি ও লেয়ার মুরগির দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। তবে আজ প্রতি ডজনে ফার্মের মুরগির লাল ও সাদা ডিমের দাম কমে ৫ টাকা করে। মেসার্স রেদওয়ানুর রহমান পোল্ট্রি ফিড মালিক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান (মোল্লা) বলেন, ‘নতুন বছর আসতেছে। এখন মুরগির দাম একটু বেশিই থাকবে। কারণ এখন চাহিদা বেশি। এটা আবার জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে কমে যাবে।
এছাড়া আজ বাজারে আকার ও ওজন অনুযায়ী ইলিশ মাছ ৬৫০-২৮০০ টাকা, রুই মাছ ৪০০-৫৫০ টাকা, কাতল মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, কালিবাউশ ৩৫০-৬০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৮০০-১৬০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৪০০ টাকা, কৈ মাছ ২৫০-৮০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০-৫০০ টাকা, শিং মাছ ৪৫০-১২০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০-৭০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৮০০-১২০০ টাকা, কাজলী মাছ ১০০০-১৪০০ টাকা, শোল মাছ ৮০০-১০০০ টাকা, মেনি মাছ ৬০০ টাকা, চিতল মাছ ৬০০-৮০০ টাকা, সরপুঁটি মাছ ২০০-৪০০ টাকা, রূপচাঁদা মাছ ৮০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুদিপণ্যের দাম অপরিবর্তিত।
আজকের বাজারে ছোট মসুর ডাল ১৩৫ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারি ডাল ১১০ টাকা, বুটের ডাল ১৩৫ টাকা, মাষকলাই ডাল ১৯০ টাকা, ডাবলি ৭০ টাকা, ছোলা ১৩০ টাকা, প্যাকেট পোলাও চাল ১৫০ টাকা, খোলা পোলাও চাল মানভেদে ১১০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দাম বাড়ানোর পরেও এখনও স্বাভাবিক হয়নি সয়াবিন তেলের বাজার। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৫৭ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১২৫ টাকা, খোলা চিনি ১২৫ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৫০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১১৫ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মা ভেরাইটিজ স্টোরের সৈয়দ শামীম আহমদ বিক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি। আমাদের কাছে আছে শুধু সূর্যমুখী তেল আর রাইস ব্র্যান (চালের কুড়া) তেল। এগুলো সবাই খায় না। এখন দেখছি যারা খোলা তেল বিক্রি করে, তারা প্রতিকেজি সয়াবিন তেল ১৮২ টাকায় বিক্রি করছে। অথচ সরকার প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৫৭ টাকায় বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে। যা অবস্থা দেখছি, কেউই কিছু মানছেন না।
জৈন্তাবার্তা / রহমান




