দোয়ারাবাজারে কালভার্ট নির্মাণে অ নি য় ম
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৩ PM

দোয়ারাবাজারে কালভার্ট নির্মাণে অ নি য় ম

সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২/০১/২০২৫ ০১:৪৬:৪৪ AM

দোয়ারাবাজারে কালভার্ট নির্মাণে অ নি য় ম

নতুন ও পুরনো কালভার্ট


সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে রাস্তাবিহীন অপরিকল্পিত কালভার্ট নির্মাণ করে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এলজিইডি কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। কালভার্টের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এই ঘটনাটি ঘটেছে দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নে।

জানা যায়, উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের রগারপাড় (বড়ময়দান) খালে একটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ করাচ্ছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদ। দোয়ারাবাজার উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় থেকে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী নরসিংপুর ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ৮ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা বরাদ্দে কাজটি করাচ্ছেন তিনি। যদিও একই জায়গায় প্রায় ১০-১৫ বছর আগে আরেকটি কালভার্ট নির্মাণ করেছিলেন তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান। তবে ওই কালভার্টটি পরিকল্পনাহীনভাবে করায় তা স্থানীয়দের ব্যবহারের উপযোগী হয়নি। নির্মাণের কয়েকদিন পরেই তা ধসে খালে পড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, তৎকালীন কালভার্টের পশ্চিম পাশে রাস্তা ও পূর্ব পাশে বিশাল খাল। এতে পশ্চিম পাশ দিয়ে কালভার্টে উঠে পূর্ব পাশ দিয়ে নামতে হয় খালে। এমন করে কিছুদিন চললেও বর্ষায় কালভার্টের পূর্ব পাশ ধসে পড়ে যায়। যার ফলে কালভার্টটি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, নরসিংপুর ইউনিয়নের রগারপাড় (বড়ময়দান) খালের এক পাশে রাস্তা থাকলেও আরেক পাশে বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে বড়খাল। খালের মধ্যবর্তী স্থানে একটু উঁচু জায়গার সাথে সংযোগে নির্মিত হচ্ছে কালভার্ট। কালভার্ট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা। কিন্তু কাজ চলমান থাকা এই কালভার্ট পরিদর্শন করে দেখা যায়, এতে ব্যয় হতে পারে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। বাকি ৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অপরিকল্পিতভাবে কালভার্ট নির্মাণ করছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দেওয়া ব্যয়ের তালিকা অনুযায়ী কালভার্টের কাজ চললেও কাজ শুরুর পর এর তদারকিতে আসেননি কেউ। যা স্পষ্ট হয়েছে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা মো. আব্দুল হামিদের বক্তব্যে। অপরিকল্পিত কালভার্ট নির্মাণ আর এলজিইডি কর্মকর্তার তদারকি নেই- এমন খামখেয়ালিতে সামনে এসেছে ইউপি চেয়ারম্যান ও এলজিইডি কর্মকর্তাদের অসৎ উদ্দেশ্য।

এদিকে, ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে কালভার্টের ব্যয় ধরা হলেও এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না ইউপি সদস্যরা। স্থানীয় একাধিক ইউপি সদস্য জানান, ইউপি চেয়ারম্যান পরিষদের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তাদের নিয়ে নিজের ইচ্ছামতো পরিকল্পনাবিহীন কালভার্টের কাজ করাচ্ছেন। যদিও ৮ লাখ ৩১ হাজার টাকা কালভার্ট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে, তবে এর পুরোটায় দুর্নীতি। প্রথমত এই জায়গায় কালভার্টের পরিবর্তে সেতু ও সড়ক হওয়ার প্রয়োজন ছিল। দ্বিতীয়ত এই কালভার্টে সর্বোচ্চ ব্যয় হতে পারে ৩ থেকে ৪  লাখ টাকা।

অন্যদিকে, এই কালভার্ট নির্মাণের জটিলতা নিয়ে গত মাসে স্থানীয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নেহের নিগার তনু বিষয়টি জানেন না এবং তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন এমন বক্তব্য প্রদান করা হলেও সংবাদ প্রকাশের প্রায় এক মাস পরেও উপজেলা প্রশাসনের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, রগারপাড় (বড়ময়দান) খালের উপর অপরিকল্পিতভাবে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। এই কালভার্ট এলাকার মানুষের কোনো কাজে আসবে না। শুকনো মৌসুমে কালভার্ট কোনোরকমে ব্যবহার করা গেলেও বর্ষায় সাঁতার কেটে কালভার্টে ওঠা ছাড়া কোনো উপায় নেই।  

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদের মুঠোফোনে কল দিলে 'বিষয়টি প্রকৌশলী জানেন' বলে তিনি কল কেটে দেন।

দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল হামিদ জানান, তিনি কালভার্টের কাজ তদারকিতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময় আর সুযোগের অভাবে সেটা সম্ভব হয়নি।

নির্মাণ ব্যয়ের তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখানে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মেহেদি ওই তালিকা প্রদান করেছেন বলে তিনি জানান।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নেহের নিগার তনু বলেন, আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে বলেছি, উনি সেখানে যাবেন। অনিয়ম-দুর্নীতি হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জৈন্তা বার্তা/আরআর