ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় যুব বিভাগের সভাপতি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জাতি জেগে উঠেছে, ফ্যাসিবাদের সমস্ত চিহ্নকে এই জাতি নিশ্চিহ্ন করে দিবে। যেখান থেকে ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে, লালন হয়েছে, ফ্যাসিবাদ যেখানে এই জাতিকে ধ্বংস করেছে তার সবগুলো সিমবল জাতি নিশ্চিহ্ন করে দিবে ইনশাআল্লাহ।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মৌলভীবাজার জেলা শাখার যুব বিভাগের আয়োজনে সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
তিনি বলেন, আজকে এই জাতি ঐক্যের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে ফ্যাসিবাদ যত শক্তিশালী হোক, যত আক্রমাণত্বক হোক, যত খুন আর গুম করুক, যতগুলো আয়নাঘর তৈরি করুক, যতগুলো ক্রসফায়ার করুক কোন কিছু দিয়ে তাদের শেষ করা সম্ভব হয় না। এই জাতি যখন জেগে উঠে তখন আর তাদের দমাতে কেউ পারে না।
যুব বিভাগ মৌলভীবাজার জেলার সভাপতি মো: ফখরুল ইসলামের সভাপেিত্ব ও সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী মুর্শেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমীর ও কুলাউড়া সংসদীয় আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো :শাহেদ আলী, সাবেক জেলা আমীর ও রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর আসনের প্রার্থী মো: আব্দুল মান্নান, নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও মৌলভীবাজার-১ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমীর হাফেজ তাজুল ইসলাম, রাজনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর আবুর রাইয়ান শাহিন।
প্রধান অতিথি বলেন, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে একটি নিয়মতান্ত্রিক বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে, সমাজ ব্যবস্থাকে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে, জাতীয় সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে, ছাত্রসমাজকে, যুবসমাজকে আমাদের সবকিছুকে ধ্বংসের চুড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। প্রতি বছর তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লুটপাট করেছে। টাকার হিসেবে যা ২৮ হাজার কোটি টাকার উপরে। এমপি হওয়ার আগে যাদের সম্পদের বিবরণ ছিল এক কোটি টাকা এমপি হবার পরে একেক জন মালিক হয়েছেন শতাধিক কোটি টাকার। ব্যাংকের সমস্ত টাকা তারা লুটপাট করেছেন। ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়ে গেছে। ব্যাংকে জমানো টাকা পাওয়া যায় না, এলসি করা যায় না, আমদানিকারক আমদানি করতে পারছে না। সকল কিছু তারা ধ্বংস করে দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আজকে যুবকদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে, মাদক তুলে দেওয়া হয়েছে, যুবকদের জাতিবিনাসী সমস্ত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা আমাদের যুব সমাজকে অস্ত্রমুক্ত, মাদকমুক্ত করতে চাই। তাদেরকে নৈতিক শিক্ষায় উজ্জীবিত করে জাতি এবং রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে নেতৃত্বের আসনে দেখতে চাই। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ফ্যাসিবাদ যে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে, যে গুম খুন করেছে, জাতির উপর যে ভয়ংকর দানবের মতো চেপে বসেছিল এই ফ্যাসিবাদের বিচার হবে। আমাদের যারা আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, গত ১৫ বছরে যারা শহীদ হয়েছেন বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ হয়েছেন সেই ফ্যাসিবাদের বিচার করতে হবে। ফ্যাসিবাদের ঠাই বাংলাদেশে হবে না। ফ্যাসিবাদের ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই সমস্ত সন্ত্রাসীদের এখনও আইনের আওতায় আনা হয়নি। তারা এখনও আমাদেরকে হুংকার দেয়। দেশে ঢুকবো, খুন করবো, গুম করবো, বাড়িঘর জ¦ালিয়ে দিব। তারা এখনও এই জাতির শক্তি দেখে নাই। এই ফ্যাসিবাদকে দেশীয়, আন্তর্জাতিকভাবে, ডিপ্লোমেটিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে। এর আগে শুক্রবার সকাল থেকে দিনব্যাপী মৌলভীবাজার পৌর মিলনায়তনে জেলা জামায়াতের আয়োজনে সাবেক সদস্য ও সাথীদের নিয়ে আয়োজিত শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




