সংগৃহীত
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মনোরঞ্জন রায় নামে এক প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুইভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত মনোরঞ্জন রায় (৫৫) চিরিরবন্দরের ইসবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি পার্বতীপুর চকসুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, পার্বতীপুরের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামের প্রয়াত শিক্ষক আজিজুল হকের বাড়িতে নির্মাণকাজের পারিশ্রমিক, ইউক্যালিপ্টাস গাছের কাঠের গুড়ির হিসাব এবং শ্রমিকদের মজুরি বণ্টন নিয়ে কাঠমিস্ত্রি ফরতাজ হোসেনের সঙ্গে আজিজুল মাস্টারের ছেলে আল-রোমানের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এছাড়া বাড়ির পার্শ্ববর্তী রাস্তার জমি নিয়ে আল-রোমানদের সঙ্গে স্থানীয় আশিকুজ্জামান আলো মিয়া ও তার ভাই আসাদুজ্জামানের ঝামেলা চলছিল।উক্ত বিরোধের জেরে গতকাল দুপুরে আল-রোমানদের বাড়িতে ফরতাজ হোসেন, আশিকুজ্জামান আলো মিয়া ও আসাদুজ্জামান উপস্থিত হন। সেখানে আল-রোমানের মা মোছা. রোমানা আক্তারের সঙ্গে আসামীদের বাকবিতণ্ডা হয়। সে সময় বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়ের ওপর হামলা করেন অভিযুক্তরা। তাকে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় মনোরঞ্জন রায় পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে মারধর করা হলে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নিকটস্থ ধানক্ষেতে পড়ে যান। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আল-রোমানদের বাড়িতে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য মতে পার্বতীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আসাদুজ্জামান এবং রাতে চিরিরবন্দর থানাধীন ফতেজংপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার অন্যতম প্রধান আসামী আশিকুজ্জামান আলোকে গ্রেপ্তার করে।
দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা , জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা




