ফাইল ছবি
পবিত্র শবে বরাতের এ রাতে মুসলমানরা মহান আল্লাহর দরবারে পাপ মোচনের আকুতি জানাচ্ছেন। আজ (শুক্রবার) রাতে সুনামগঞ্জের মসজিদে-মসজিদে মুসল্লিদের ভিড় লেগেছে।
মুসলিম উম্মাহর জন্য শবে বরাত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাত। এই রাতকে মুক্তির রাত হিসেবেও অভিহিত করা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
সরেজমিনে সুনামগঞ্জের ষোলঘর কলোনী জামে মসজিদ, মাইজবাড়ী মসজিদসহ পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি মসজিদ ঘুরে মুসল্লিদের ইবাদতে মশগুল থাকতে দেখা গেছে। সরেজমিনে আরও দেখা যায়, পবিত্র শবে বরাতকে কেন্দ্র করে নানা বয়সী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আসছেন জামাতে নামাজ আদায় করতে। মাথায় টুপি আর পাঞ্জাবি পড়ে মসজিদে এসেছেন অধিকাংশ মুসল্লি। কারও হাতে জায়নামাজ, আবার কারও হাতে তসবি।
জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মসজিদে শবে বরাতের রাতে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। মুসল্লিরা জামাতে নামাজ আদায় করেছেন, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেছেন এবং মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতীতের পাপ ও অন্যায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করতেই তারা বায়তুল মোকাররম মসজিদে এসেছেন।
নামাজে আসা মুসল্লি এমদাদ হোসেন জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ দিনটা আমার কাছে একটু আলাদা মনে হয়। নিজের মধ্যে কেমন যেন একটা পবিত্রতা অনুভব হয়। এজন্য সন্ধ্যার পরপরই প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে চলে এসেছি। নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য দোয়া চাইব।
ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত আর ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। আজ সেই মুক্তির রাত লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিনগত রাত (আজ শুক্রবার) মুক্তির রজনী হিসেবে পালন করে মুসলিম উম্মাহ। ভারতীয় উপমহাদেশ, ইরানসহ পৃথিবীর অনেক দেশের ফারসি, উর্দু, বাংলা, হিন্দিসহ নানান ভাষায় এটি ‘শবে বরাত’ নামেই অধিক পরিচিত। পবিত্র শবে বরাত মুসলমানদের কাছে পবিত্র রমজানের আগমনী বার্তাও নিয়ে আসে। শাবান মাসের পরে আসে পবিত্র রমজান মাস। তাই শবে বরাত থেকেই কার্যত রমজানের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




