প্রতীকী ছবি
‘এই খবরদার খবরদার, আমরা আছি পাহারাদার ধরা পড়লে রক্ষা নাই এবার’ এমন আওয়াজ ধ্বনিত হচ্ছে জগন্নাথপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে। স¤প্রতি উপজেলাজুড়ে ডাকাত আতংকে এলাকাবাসী এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ডাকাত আতংক ছড়িয়ে পড়ে। সাথে সাথে গ্রামবাসী ডাকাত প্র্রতিরোধে রাত জেগে পাহারায় নামেন। স্থানীয় লোকজন স্বপ্রণোদিত হয়ে সহায় সম্বল রক্ষায় পাহারা চালু করেছেন এবং এই খবরদার খবরদার ধ্বনি দিয়ে ডাকাতদের সাবধান করতে শোনা যায়।এলাকাবাসী সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করে উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের পইলভাগ, আধুয়া, বাউরকাপন, লহরী, শ্রীরামসি আটঘর, ইসহাকপুর, শাসনহবি, পীরেরগাঁও গ্রামে ডাকাত আতংক ছড়িয়ে পড়ে। সাথে সাথে গ্রামবাসী ডাকাত প্রতিরোধে পাহারায় নামেন। কেউ কেউ এই খবরদার খবরদার বলে ডাকাতদের সর্তক করেন।
উপজেলার লহরী গ্রামের বাসিন্দা মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খলিল উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় ডাকাত আতংক বিরাজ করছে। প্রতিবশী দশঘর গ্রামে একটি ডাকাতির ঘটনার পর এ আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
লহরী গ্রামের বাসিন্দা লিটন জানান, আমাদের গ্রামের কয়েক বাড়িতে হিন্দু স¤প্রদায়ের বিয়ের আয়োজন চলছে। আত্মীয় স্বজনরা বিয়ে বাড়িতে এসে ডাকাত আতংকে আতংকিত হয়ে পড়েছেন। আমরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি এবং খবরদার খবরদার বলে ডাকাতদের সর্তক করছি।
শ্রীরামসি গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস মিয়া বলেন, রাতে হঠাৎ করে খবর পাই এলাকায় ডাকাত ঢুকছে। সাথে সাথে বন্ধু-সহকর্মী নিয়ে ডাকাত প্রতিরোধে নামি, সারারাত জেগে পাহারা দেই।
বাউরকাপন গ্রামের সমর পাল জানান, মসজিদে মাইক থেকে ডাকাত এসেছে মাইকিং করে জানানো হলে গ্রামবাসী ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। পরে প্রতিটি পরিবার থেকে একজন করে সদস্য মিলে আমরা সারারাত পাহারা দেই।
মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াব বলেন, ডাকাতি নিয়ে আতংক রয়েছে। এলাকার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। মানুষজন কে আতঙ্কিত না হয়ে সর্তক থাকতে আমরা পরামর্শ দিচ্ছি।
জগন্নাথপুর থানার ওসি বললেন, গুজব ছড়িয়ে মানুষজনকে আতংকিত করা হচ্ছে। ডাকাতির কোন ঘটনা উপজেলায় ঘটেনি। রাতে পুলিশের টহল রয়েছে সব সময়।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




