ছবি: নিজস্ব
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় ফেনারবাকের ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে খাঁন মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক গ্রামবাসীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে করেন গ্রামের পশ্চিম মাঠে। ৫মার্চ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ৫পৃষ্টার লিখিত কাগজের বক্তব্য পাঠকালে উপস্থিত ছিলেন গ্রামের মুরুব্বি, যুবক ও সর্বস্তরের জনগণ।
সংবাদ সম্মেলনে ৫০ জনের স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠকালে খান মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, জুলফিকার চৌধুরী রানা একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে আমাদেরকে আওয়ামী লীগের দুসর হিসাবে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজকে আমাদের এই সংবাদ সম্মেলন। ফেনারবাঁক গ্রামের উন্নয়ন কমিটির সভাপতি জুলফিকার চৌধুরী রানা গ্রাম কমিটির সেক্রেটারিকে সাথে নিয়ে নিজ ইচ্ছামত ব্যাংক থেকে টাকা তুলে খরচ করতেছে। আমাদের স্বেচ্ছাশ্রমের কাজকে টাকার কাজ হিসাবে দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করছে বলে আমরা সংবাদ পাচ্ছি। ফেনারবাঁক এবং শান্তিপুর গ্রামের সম্মিলিত ফান্ড দীর্ঘদিন যাবত পরিচালিত হয়ে আসছে। ফান্ডের কত টাকা পানি নিষ্কাশন বাবদ উত্তোলন করা হয়েছে, তা জানতে বার বার তাকে জিজ্ঞাসা করলেও তিনি আমাদেরকে এ বিষয়ে অবগত করেননা। বরং হুমকি প্রদান করে বলেন, যারা হিসাব জানতে চাইবে তাদেরকে আওয়ামী লীগের দোসর হিসাবে বিভিন্ন মামলায় চালান করা হবে।
জুলফিকার চৌধুরী রানা ব্যাক্তি পর্যায়ে আরো লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করেছেন কিন্তু বিগত কয়েকদিন আগে জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে রানা মাত্র ৬৫ হাজার টাকার হিসাব দিয়েছেন। আরো ৪০ হাজার টাকার হিসাব দেননাই নাই। যেখানে আমার ভাই আশরাফ দিয়েছে ১০ হাজার। এছাড়াও আরো কতটাকা আত্মসাৎ করেছে আমাদের অজানা। আমরা বলেছি গ্রামের ফান্ড, চাঁদার টাকা ও স্বেচ্ছাশ্রমের কাজ দেখিয়ে ডিসি মহোদয়ের অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তার বক্তব্যে আমাদের এই অভিযোগও সত্য প্রমাণিত হয়েছে। কারণ তারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন যে, গ্রামের অর্থায়নে কাজ শেষ করা হয়েছে। তাহলে আমাদের প্রশ্ন, ডিসি স্যারের টাকা তুলে কাকে দেয়া হবে? আমাদের বড় অভিযোগ গ্রামের ফান্ড থেকে কত টাকা তোলা হয়েছে গ্রামবাসী আজ পর্যন্ত জানেন না। এটার তদন্ত করলে সব কিছু বেরিয়ে আসবে। অতীতে নজীর হুসেন এমপির অনুদানের দেড় লক্ষ টাকা বাঁশ কিনার কথা বলে রানা এই টাকা গ্রামবাসীকে না দিয়ে আত্মসাৎ করেছে। জিয়া পরিষদের নামে নজির হোসেনের অনুদানের ১২ টন গম/চাল ফেনারবাঁক গ্রামের নামে আত্মসাৎ করেছেন।
শান্তিপুর গ্রামের প্রতিরক্ষা দেয়ালের ইট কে কিভাবে চুরি করে বিক্রি করেছে তা আপনারা তদন্ত করলেই পেয়ে যাবেন। ফেনার বাঁক ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের জন্যে রতন সাহেবের ডিও আনতে একলক্ষ টাকা তৌফিক সাহেব নিয়েছিলেন। সেই টাকা তিনি কাকে দিয়েছেন আজ পর্যন্ত সেই হিসাব তিনি দেন নাই। বিএনপি নেতা হয়ে তিনি কেন আওয়ামী লীগের নেতাকে টাকা দিতে গেলেন। এতে কি প্রমাণ হয় না যে তিনিই স্বৈরাচারের দোসর ছিলেন। বহুদিন আগে হাসপাতালের কথা বলে ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছিলো তা তদন্ত সাপেক্ষে বের হয়ে আসুক। জুলফিকার চৌধুরী রানা সাবেক মহিলা এমপি শামিমা শাহরিয়ার ও তার স্বামী শাহরিয়ার বিপ্লবের কত ঘনিষ্ট ছিল।রানা নিজে মহিলা এমপির প্রকল্প ফেনার বাঁক বাজার, গুচ্ছগ্রাম এর কাজ করেছে। ফেনার বাঁক বাজার ও গুচ্ছগ্রামের সকল শ্রমিক স্বাক্ষী হিসাবে এখনো জীবিত আছে। বাজারের হিসাবের খাতায় রানার স্বাক্ষর আছে। সে যে কাজ করেছে এমনকি শ্রমিকের টাকা আত্মসাৎ করার পর গত বছর গ্রামে তার বিরুদ্ধে বিচার হয়েছে। তার আপন চাচাকে ফেনার বাক গ্রামের অন্য একটি প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে। বিএনপি নেতা মুজাম্মেল চৌধুরী যিনি এখন রানার সাথে গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সেক্রেটারি হিসাবে আছেন তিনিও মহিলা এমপির দুইটি কমিটির প্রকল্প সভাপতি হিসাবে কাজ করেছেন। মহিলা এমপির বাড়ীতে যত গুলো সভা হয়েছে প্রত্যেকটা সভায় জুলফিকার চৌধুরীর বাবা সভাপতিত্ব করেছেন। রানার বাড়িতে মহিলা এমপির অনুদানের ঘর এখনো আছে আপনারা পারলে দেখে যাবেন। যে ঘরে রানার আপন চাচাত বোন থাকে।
বিএনপি নেতা তৌফিক চৌধুরীর আপন বড়ভাই সেলিম চৌধুরী মহিলা এমপির ৭ টি প্রকল্পের সভাপতি হিসাবে কাজ করেছেন। তৌফিক চৌধুরী ও সেলিম চৌধুরী সহ সবাই মহিলা এমপি ও তার স্বামির সুবিধা নিয়েছে। এরকম শতশত উদাহরণ এই এলাকার মানুষ জানে।
শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন তৌফিক চৌধুরীর বাড়িতে তিন বার এসে রাত্রিযাপন করেছে। আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম শামীম সাহেবের প্রত্যেকটি নির্বাচনের মূল এজেন্ট ছিল এই দুইজন। যে সব নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি সেই সব নির্বাচনে এই দুইজন শামিম সাহেব ও রতন সাহেবের পক্ষে প্রচারনায় অংশ নিয়েছে। একটি নির্বাচনে শামিম সাহেবের পক্ষে ভোট কারচুপি করার কারণে পুলিশ তৌফিক চৌধুরীকে ৫ ঘণ্টা আটক করে রাখে। রতন এমপির সুপারিশে স্বৈরাচারী আমলে দুইবার তৌফিক চৌধুরী সেলিমগঞ্জ স্কুলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে। সারাদেশে যখন বিএনপির নেতা কর্মিরা পলাতক বাড়িছাড়া তৌফিক ও রানা তখন এমপি সাহেবদের সুপারিশে স্কুলের সভাপতি, ইউনিয়ন নির্বাচন সহ সব ধরনের নির্বাচনে অংশ নেয়। এখন আপনারা বুজেন কারা স্বৈরাচারী দোসর ছিলো।
জৈন্তাবার্তা / এম সি




