ছবি: নিজস্ব
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার হাওরে হাওরে দুলছে কাচা ও আধাপাকা বোরো ধান। কৃষকরা বলছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটার ধুম পড়বে। তাই ধান কাটা, মাড়াই করার প্রস্তুতির সাথে সাথে ধান শুকানোর জন্য তৈরি করা হচ্ছে খলা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার করিমপুর, রফিনগর, রাজানগর, তাড়ল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষাণ কৃষাণীরা ধান শুকানোর খলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
খলা তৈরির কাজে ব্যস্ত কৃষক রফিনগর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের নূর ইসলাম বলেন, ৫/৬ বিঘা জমি চাষাবাদ করেছি। এখন ধান কাটার সময় তাই খলা প্রস্তুত করছি। আশা করি আগামী সপ্তাহেই ধান কাটা শুরু করতে পারব।
বারঘর গ্রামের নমিতা দাস, আরতী দাস ও প্রমথ দাস বলেন, বৃষ্টি হচ্ছে না বললেই চলে। তাই ধান পাকতে একটু সময় নিচ্ছে। ধান কাটা শুরু হবার আগেই আমরা ধান শুকানোর খলা তৈরি করছি। মাটির সাথে গোবর মিশিয়ে লেপ দিয়ে সমান করে খলা রোদে শুকানো হবে।
তারা বলেন, আমাদের গ্রামের অধিকাংশ পরিবার খলায় ধান শুকিয়ে থাকে, তাই আমরা উৎসবের মতোই খলায় ধান শুকিয়ে গোলায় ধান তুলি।
করিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন চন্দ দাস বলেন, এবছর অন্য জেলার ধানকাটা শ্রমিকরা দিরাই উপজেলায় আসার সম্ভাবনা খুবই কম, হারভেস্টার মেশিন ও স্থানীয় শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হবে বেশি। ইতোমধ্যে ধানকাটার মেশিনও শ্রমিকদের সংগ্রহে চারদিকে ছুটছেন কৃষকরা। এছাড়া ধান মাড়াইয়ের মেশিনের চালকদের সঙ্গে কথা বলে রাখছেন।
ধান শুকানোর জন্য ত্রিপাল সংগ্রহ ও খলা তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৩০ হাজার ১৭৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। যা থেকে ১ লাখ ২৮ হজার ৮৪৯ মে.টন চাল উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী বলেন, এ বছর হাওরে ভালো ফলন হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে কৃষকরা ধান ঘরে তুলতে পারবেন এবং লাভবান হবেন।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




