ছবি: নিজস্ব
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় হাওর নলুয়ার হাওরে শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের উৎসব। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার হাওর ঘুরে মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা উৎসাহ নিয়ে ধান কাটছেন। কেউ কেউ ধান ঘরে তুলছেন। কৃষকের আঙিনায় ধান মাড়াইও ছলছে পুরো জগন্নাথপুরে।
কৃষকরা জানান, সকল প্রকার সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ধানের আবাদের খরচ বেড়ে গেছে এবার। তবে ধানের দাম ভালো পেলে কৃষকরা লাভবান হবেন। বর্তমানে বাজারে ধানের যে দাম তা নিয়ে খুশি নন কৃষকরা।
উপজেলার হলদিপুর ইউনিয়নের কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার তিনি আট বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ ও জিরাশাইল জাতের ধান আবাদ করেছিলেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় ধানের ফলন বেশ ভালই হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। আশা করছি বিঘাপ্রতি ধানের ফলন ২০-২২ মন হবে। তবে ধানের যে দাম তা থাকলে তেমন ভাবে লাভবান হবেন না।
উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের কৃষক আদিল হোসেন বলেন, ‘বোরো ধানের ফলন বেশ ভালো হবেই বলে আশায় ছিলাম কিন্তু ঈদের পরে যে শিলাবৃষ্টি হলো তাতে বেশকিছু এলাকায় ধানের ক্ষতি হয়েছে। এতে করে ধানের ফলন কমে যাবে।
উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের কৃষক সাব্বির হোসেন জানান, ব্রি-৮৮ জাতের ধান ৭ বিঘা জমিতে লাগিয়েছেন তিনি। বিঘাপ্রতি খরচ নয় থেকে সাড়ে ১০ হাজার টাকা। প্রতিবিঘায় ধানের ফলন হচ্ছে ২০ থেকে ২২ মনের মধ্যে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমদ বলেন, ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়ে গেছে। ধান কাটার আগের মুহুর্তে ধানের জমিতে সেচের জন্য কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। প্রচন্ড তাপদাহের কারণে জমিতে পানি বেশি লেগেছে। ডিপটিউবওয়েল গুলোতে পানি কম উঠায় কৃষকরা সমস্যায় পড়ে। ধানের ফলন বেশ ভালোই হয়েছে। আশা করা যায় কৃষকরা যথাসময়ে তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারবে।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




