ছবি: নিজস্ব
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের হাওরগুলোর বোরো ধান এখনো পুরোপুরি পাকেনি। তবে বৃষ্টি ও অকাল বন্যার শঙ্কায় গত পহেলা বৈশাখ থেকে উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি জমির বোরো ফসল ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। আর কৃষকদের ভাষ্য, বাঁধের অবস্থা বেশি ভালো নয়। ভারী বৃষ্টি ও ভারতের পাহাড় থেমে ঢল নামলে হাওরের ফসলের ক্ষতি হতে পারে। সেই শঙ্কায় আগে থেকে আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে শুরু করেছেন তারা।
এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানিয়ে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক জরুরি বার্তায় বলা হয়েছে, দেশে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টির ফলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এজন্য হাওরের ধান ৮০ ভাগ পাকলেই তা দ্রæত কাটতে কৃষকদের অনুরোধ জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।
উপজেলার কবিরপুর গ্রামের কৃষক জায়েদ আহমদ বলেন, হাওরের বোরো ধান নিয়ে আমরা চিন্তিত। নানা শঙ্কার মধ্যেই ধান কাটা শুরু করেছি। বাঁধের অবস্থা বেশি ভালো নয়। ভারী বৃষ্টি ও ভারতের পানি এলে নলুয়ার হাওরের ক্ষতি হতে পারে। তবে প্রতিনিয়ত বাঁধগুলো উপজেলা প্রশাসন তদারকি করছে।
মইয়ার হাওরের কৃষক টুনু মিয়া বলেন, প্রশাসনের জরুরি বার্তা পাওয়ার পর সবাই ধান কাটা শুরু করেছেন। অধিকাংশ কৃষক পুরো ধান পাকার আগেই কেটে নিচ্ছেন। কেউ ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। কারণ এই বোরো ফসল সারা বছরের খাবার।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, ছোট-বড় সব হাওরে কম-বেশি ধান কাটা শুরু হয়েছে। যেসব জমির ধান ৮০ ভাগ পেকেছে, সেসব জমির ধান দ্রæত কাটার জন্য আমরা কৃষকদের অনুরোধ করেছি। এবার ১২টি হাওরে ২০ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আগামী মাসের ৫ তারিখের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে। ধান কাটার জন্য ৭৪টি মেশিনসহ প্রায় ১৮ হাজার শ্রমিক মাঠে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




