পঞ্চাশ কোটি টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে সুফল মিলছে না। সাত বছর অতিবাহিত হলেও নাগরিকরা এ প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছেন। এতে নাগরিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রকল্পের কাজ বর্তমানে ধীরগতিতে চলছে। কবে এর সুফল মিলবে তার সদুত্তর জানা নেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ১৩ সেপ্টেম্বর সারাদেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনের জন্য একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেকে অনুমোদন করা হয়। এ প্রকল্পে জগন্নাথপুর পৌরসভার পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ মিলে। জগন্নাথপুর পৌরসভা ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, জগন্নাথপুর পৌরসভার জন্য একটি গ্রাউন্ড ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ওভার হেড ট্যাংক, একটি সলিড ওয়েস্ট কম্পোসিং সিস্টেম, ২৬ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের মধ্যে ২৩ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়। ৯৫টি গভীর নলকুপ স্থাপন করার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। আট কিলোমিটার আরসিসি ড্রেনের কাজ বাস্তবায়ন হয়। ১৫টি কমিউনিটি ল্যাট্রিনের মধ্যে ৫টি হয়েছে, বাকি ১০টির কাজ হয়নি। ৬টি পাবলিক টয়লেট হয়েছে। ৩৬টি ডাস্টবিন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। একটি পানি সরবরাহ অফিস হয়েছে ও দুটি ৩ টন ওজনের ট্রাক বরাদ্দ পাওয়ার কথা থাকলেও এখনও তা পাওয়া যায়নি। শুরুতে ভূমি জটিলতায় প্রকল্পের কাজ বিঘ্নিত হলেও ২০২০ সালে পৌরসভার হবিবপুর এলাকায় ৪.৪৩ একর ভূমি সরকার থেকে বরাদ্দ নিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। গত ৫ বছরে প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত অনেক কাজই হয়নি। এর মধ্যে সলিড ওয়েস্ট কম্পোসিং সিস্টেম ভূমি জটিলতায় বাতিল হয়ে যায়।
জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র সফিকুল হক বলেন, আমরা দায়িত্বকালীন সময়ে এ প্রকল্পের পুরোপুরি কাজ শেষ করে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের চেষ্টা করেছি। তবে আমলাতান্ত্রিক নানা জটিলতায় কাজ শেষ হয়নি। কবে এর সুফল মিলবে বলা যাচ্ছে না। আমার ওয়ার্ডে একটি ড্রেনের কাজ অসমাপ্ত রেখে ঠিকাদার চলে গেছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক এম এ কাদির বলেন, ৫০ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব হতো। পৌর নাগরিকরা বিশুদ্ধ পানি ও ড্রেনেজ সংকটে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ৭ বছরেও প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া দুঃখজনক। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় উন্নয়ন কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে।
জগন্নাথপুর পৌরসভার প্রকৌশলী সতীশ গোস্বামী জানান, প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও গত এক বছর ধরে অসমাপ্ত কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় লাগতে পারে।
জগন্নাথপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, এই প্রকল্পের অনেক কাজ এখন দৃশ্যমান। প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে আমরা চেষ্টা করছি।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




