জগন্নাথপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহর বি*রুদ্ধে দুর্নী*তি ও ক্ষম*তার অপ*ব্যবহারের অভি*যোগ
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০২:৫৭ PM

জগন্নাথপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহর বি*রুদ্ধে দুর্নী*তি ও ক্ষম*তার অপ*ব্যবহারের অভি*যোগ

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪/১১/২০২৫ ০৮:২৯:০২ PM

জগন্নাথপুরের  ইউএনও বরকত উল্লাহর বি*রুদ্ধে দুর্নী*তি ও ক্ষম*তার অপ*ব্যবহারের অভি*যোগ

ছবি:সংগৃহীত


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কয়েকজন বাসিন্দা এসব অভিযোগ তুলে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকেও (দুদক)।

অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, ইউএনও বরকত উল্লাহ সরকারি বরাদ্দের নিজ কক্ষে না বসে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষটি সরকারি অর্থে রাজকীয়ভাবে সাজিয়ে সেখানে বসেই নিয়মিত অফিস করেন। তিনি নিজেকে ‘ক্ষমতাসীন কর্মকর্তা’ হিসেবে দাবি করেন। এমনকি উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে-যেখানে মন্ত্রী, এমপি, ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি), চেয়ারম্যান ও মেয়র-এই পাঁচ পদে ভাগ করে ঘুষ নেয়ার প্রচলন রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি সব প্রকল্প থেকেই ইউএনও ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ আদায় করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফসলরক্ষা বাঁধ, নদী ভাঙন রোধ প্রকল্প, কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প-সবখানেই তার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি আশারকান্দি ইউনিয়নের একটি প্রকল্পের ১০.৭০০ টন চাল বরাদ্দ ভাগ করে নেয়া এবং উপজেলা বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল (এডিপি) থেকে একাধিক খাতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগেও অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দিঘলবাক এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমীন খান অভিযোগ করেন, ইউএনও তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেন, কিন্তু প্রতিশ্রুত ডিলারশিপ না দিয়ে টাকা ফেরত চাইলে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন।

রুহুল আমীন বলেন, ‘এক বছরেরও কম সময়ে ইউএনও বরকত উল্লাহ জগন্নাথপুরে রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে মানুষ অতিষ্ঠ। তার অনিয়মের তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা অভিযোগ করেছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও বরকত উল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগকারী খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ঘরভাড়ার চুক্তিপত্র জাল ছিল। তাই তার আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এর পর থেকেই তিনি ষড়যন্ত্র করছেন। অভিযোগের অন্য সব বিষয় সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার দেবজিৎ সিংহ বলেন, ‘ইউএনও’র বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: