ছবি: জৈন্তা বার্তা
পৌষ মাসের শুরু থেকেই শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও অ্যাজমার মতো রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
গত বছরের তুলনায় চলতি শীত মৌসুমে বড়লেখা উপজেলায় সর্দি-জ্বর ও শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব রোগীর মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি। ফলে বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ শতাধিক রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকেই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ না হওয়ায় হাসপাতালে এসে ভর্তি হচ্ছেন। ৫১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় থাকা দুটি ওয়ার্ডে রোগীর চাপ এখন চরমে। শয্যা সংখ্যা ৫১ হলেও প্রতিদিন গড়ে ৪২ থেকে ৪৫ জন রোগী ভর্তি থাকছেন।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন অসংখ্য নারী তাদের শিশু সন্তানকে নিয়ে। কেউ এসেছেন ডায়রিয়া, কেউ জ্বর, কেউবা সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য। তবে বিপুল রোগীর চাপের বিপরীতে বহির্বিভাগে মাত্র একজন চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন।
রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলার সুনাতুলা গ্রামের বাসিন্দা সামিম আহমদ তাঁর ১০ মাস বয়সী শিশু আব্দুল্লাহর চিকিৎসা নিতে এসে বলেন, ‘জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ালেও সুস্থ হয়নি। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে।’
দোহালীয়া গ্রামের শিশু রোগী শাখানের এক স্বজন জানান, ‘প্রথমে গ্রামে চিকিৎসা করানো হলেও জ্বর কমছিল না। পরে হাসপাতালে এনে জানতে পারি নিউমোনিয়া হয়েছে। তিন দিন ধরে চিকিৎসা চলছে, এখন কিছুটা ভালো।’
আরেক রোগীর স্বজন লিমা বেগম বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে ওষুধ খাওয়ানোর পরও জ্বর ও কাশি না কমায় হাসপাতালে আসি। পরে জানা যায় শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়েছে। এখন ভর্তি রেখে চিকিৎসা চলছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. ফেরদৌস আক্তার বলেন, ‘আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণেই ঠান্ডাজনিত রোগের সংক্রমণ বেড়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি আসছে সর্দি-জ্বর ও শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীরা, বিশেষ করে শিশুরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনবল ও চিকিৎসক সংকট রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে। তবুও সাধ্যের মধ্যে চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। জনবল সংকটের বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




