ছবি:সংগৃহীত
নির্ধারিত সময়ে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় হাওর বাঁচাও আন্দোলনের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, লাগামহীন দুর্নীতি এবং বাঁধ নির্মাণে ধীরগতির প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তারা এসব কথা বলেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন হাওর বাঁচাও আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, সহ-সভাপতি সুখেন্দু সেন ও চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ নুর আহমদ, সহ-সভাপতি আলী নূর, জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিদুল ইসলাম বকুল, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া, বাবুল দাস, শান্তিগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবু সাইদ, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও আব্দুর নুর।
এ ছাড়াও বক্তব্য দেন আনোয়ারুল হক, ইসমাইল হোসেন, নূর হোসেন, মোহাম্মদ আশরাফ আলী, শওকত আলী, মুক্তার আলী ও শুকুর আলী। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত গুপ্ত।
বক্তারা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসন বিগত বছরগুলোর মতো এবারও অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের কাজের চাপকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে অনিয়ম আরও বেড়েছে। অনেক অপ্রয়োজনীয় বাঁধে উৎকোচের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং নামমাত্র কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। জেলায় বাঁধ নির্মাণ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। এখন পর্যন্ত কোনো কোনো উপজেলায় দৃশ্যমান কাজ পরিলক্ষিত হয়নি।
তারা জানান, গত বছর বাঁধ নির্মাণে ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যা চলতি বছর বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। অথচ ভরা বর্ষা না হওয়ায় জেলার অধিকাংশ বাঁধ অক্ষত ছিল। সরেজমিনে পরিদর্শন ছাড়াই মনগড়া সিদ্ধান্তে অপরিকল্পিত বাঁধে দ্বিগুণ-তিনগুণ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।
তারা হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, সুষ্ঠু কাজ না হলে এর দায়িত্ব নিতে হবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনকে। প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন তারা।
বক্তারা বলেন, সদর, শান্তিগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলায় বাঁধ নির্মাণ ও পিআইসি গঠনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ করে জামালগঞ্জের পাকনার হাওরের বগলার খালী এবং সদরের সিলুয়ার হাওরে ক্লোজার ও খননকাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
বক্তারা বলেন, সরকার অকৃপণভাবে হাওরের ফসল রক্ষার জন্য ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও দায়িত্বশীলদের অবহেলা ও খামখেয়ালির কারণে বাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় লাখ লাখ কৃষক।
তাদের অভিযোগ, সুনামগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। যে বাঁধে বরাদ্দ কম দেয়ার কথা আর গত বছরে বাঁধের ক্ষতিও হয়নি, সেই বাঁধে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বক্তাগণ বলেন, এখনও বাঁধের কাজের কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যায়নি। খুব বেশি হলে ৩০-৩৫ শতাংশ কাজ হয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ হবে না। ফলে এবারও ফসলরক্ষা বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকগণ।
মানববন্ধন থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
তবে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার দাবি করেন, জেলায় এখন পর্যন্ত বাঁধের কাজ হয়েছে ৬৮ শতাংশ।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবার অনেক দূর থেকে মাটি এনে বাঁধ নির্মাণ করার ফলে বেশি ব্যয় হয়েছে। তাই বরাদ্দের পরিমাণ বেশি। এ ছাড়া ভ্যাটও বেড়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




