সংগৃহীত
মাধবপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উচ্ছ্বাসের সঙ্গে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, কুচকাওয়াজ, স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা এবং নানা সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন এই সকল কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্য রেখেছে।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে হবিগঞ্জ-৪ মাধবপুর চুনারুঘাট আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি জানান, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের সেই উত্তাল সময়ে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তিনি কেবল ঘোষণা দেননি, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন।
সকালের প্রথম প্রহরে মাধবপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ বিন কাশেম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম, মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সোহেল রানা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং সাধারণ মানুষ। শহীদ মিনারের চারপাশে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দেশপ্রেমের এক অনন্য পরিবেশ বিরাজ করছিল।
এরপর সকালেই মাধবপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ প্যারেড এবং দৃষ্টিনন্দন প্রদর্শন দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্যারেড কমান্ড প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ বিন কাশেম। তিনি প্যারেড পরিদর্শন এবং অংশগ্রহণকারীদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। এই কুচকাওয়াজ শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতার চেতনা, দেশপ্রেম এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমে পরিণত হয়।
দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ বিন কাশেম। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম এবং মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সোহেল রানা উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।
এর আগে বেলা ১১টায় তেলিয়াপাড়া চা বাগানে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় উপস্থিতরা স্বাধীনতার জন্য শহীদদের ত্যাগ, দেশপ্রেম এবং মুক্তি আন্দোলনের স্মৃতি স্মরণ করেন।দিবসজুড়ে মাধবপুরবাসী নানা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে স্বাধীনতার গৌরব উদযাপন করেন। শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ—সকলেই এই মহান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও উচ্ছ্বাসের সঙ্গে পালন করেন, যা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার সঞ্চার করে।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




