ছবি:সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আপাতত অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে সরকার। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সোমবার বিকেলে একটি গনমাধ্যমকে দেয়া দেওয়া বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, মন্ত্রিসভা আপাতত অনলাইনে ক্লাস না করার দিকেই ঝুঁকছে। যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং পরবর্তী বৈঠকে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এর আগে রাজধানীর একটি বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময়ও তিনি একই ধরনের ইঙ্গিত দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনায় সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস পরিচালনার প্রস্তাব ছিল। এর মধ্যে জোড়-বিজোড় ভিত্তিতে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীরে পাঠদান চালুর বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। অর্থাৎ এক দিন অনলাইন, পরদিন সশরীরে-এভাবে পর্যায়ক্রমে ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী বৈঠকে সুপারিশ উপস্থাপন করবে বলে জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। এরপরই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
উল্লেখ্য, পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন উপলক্ষে প্রায় ৪০ দিনের ছুটির পর গত ২৯ মার্চ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানিসংকটের প্রভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আংশিক অনলাইন ক্লাসের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতে, বাস্তবতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন। ঢাকার একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, অধিকাংশ শিক্ষার্থী শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের পরিবারের হওয়ায় তাদের অনলাইন ক্লাসে যুক্ত করা প্রায় অসম্ভব। করোনাকালীন অভিজ্ঞতাও একই বাস্তবতা তুলে ধরেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, তারাও বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে। সব শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত রেখে কীভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা যায়, সে বিষয়ে বিকল্প চিন্তা-ভাবনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকেই।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




