সুনামগঞ্জে কৃষক-জনতার সমাবেশে ১০ দফা দাবি
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৪:১১ AM

হাওর রক্ষা বাঁধে দুর্নীতির অভিযোগ

সুনামগঞ্জে কৃষক-জনতার সমাবেশে ১০ দফা দাবি

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১/০৪/২০২৬ ০৭:৫১:৩৮ PM

সুনামগঞ্জে কৃষক-জনতার সমাবেশে ১০ দফা দাবি

সংগৃহিত


সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কৃষক-জনতার একটি গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা কৃষক ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর আগে প্রতিটি উপজেলাতেও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, হাওরের বাঁধ নির্মাণ এখন একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। অপরিকল্পিত কাজ ও দুর্নীতির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, ফলে কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তাঁরা বলেন, বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম বন্ধ করে হাওর ও কৃষি রক্ষায় পরিকল্পিত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সমাবেশে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ প্রদান, কৃষিঋণ ও বেসরকারি ঋণ মওকুফ, অপরিকল্পিত বাঁধ অপসারণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্লুইসগেট নির্মাণ।

এ ছাড়া অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প পুনঃতদন্ত, বাঁধের নামে মাটি লুট বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণ, সময়মতো জরিপ ও প্রাক্কলন সম্পন্ন এবং গণশুনানির দাবিও জানানো হয়।

পরিবেশগত বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে বক্তারা বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রকাশ করতে হবে এবং হাওরের সঙ্গে যুক্ত নদী-খাল-বিল খনন করতে হবে। পাশাপাশি যাদুকাটা, ধোপাযান, চিলাইনদী ও খাসিয়ামারা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, শিক্ষক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন, সংস্কৃতিকর্মী জাহাঙ্গীর আলম ও সমাজকর্মী নুরুল হকসহ আরও অনেকে। কৃষকদের পক্ষে বক্তব্য দেন সুলতানা বেগম, মতিউর রহমান, মির্জা ফারুকসহ একাধিক ভুক্তভোগী।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার। তাঁর দাবি, কাবিটা নীতিমালা অনুসরণ করেই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলার ১২টি উপজেলায় প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। যদিও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ হয়নি।

অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। আর সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ