সংগৃহিত
মৌলভীবাজারে কয়েক দিনের টানা হালকা ও ভারী বৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় হাওরাঞ্চলের নিচু জমির ধানখেত তলিয়ে গেছে, এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
আবহাওয়া অফিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েক দিন ধরে ঝড়সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে জেলা শহরের খাল-নালা উপচে পানি রাস্তাঘাট, দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। একই সঙ্গে হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরসহ বিভিন্ন জলাভূমিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আজও আকাশ মেঘলা রয়েছে এবং হালকা বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কর্মজীবী মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে ২৫ থেকে ২৬ এপ্রিল ৩০ মিলিমিটার এবং ২৬ থেকে ২৭ এপ্রিল ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে প্রায় সাড়ে ৩০০ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। পাশাপাশি ১৭২ হেক্টর সবজিখেত ও প্রায় ১৬ হেক্টর আউশ ধানের বীজতলা পানির নিচে গেছে। তবে ইতোমধ্যে হাওরের প্রায় ৮২ শতাংশ ধান কেটে ফেলায় বড় ধরনের ক্ষতি কিছুটা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে মনু, ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে পানি বাড়লেও বর্তমানে তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। কোথাও বাড়িঘরে পানি ওঠার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। একই সঙ্গে কাউয়াদীঘি হাওরে সেচ কার্যক্রমও চালু রয়েছে।
সার্বিকভাবে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে আপাতত বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি না থাকলেও হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে
জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ




