সিলেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ২০০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের মতো দেশগুলোকে রোগ প্রতিরোধেও সচেতন হওয়া দরকার। এজন্য আমরা ১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করবো, যাদের ৮০ ভাগ হবেন নারী। এই স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামে গ্রামে মানুষের বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করবেন। কোন খাবার বেশি খেলে কোন রোগ হয় এসব ব্যাপারে অবগত করবেন।
তিনি বলেন, সিলেটে একটি আইটি পার্ক আছে। কিন্তু এটি সচল নয়। আমরা এটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা করছি, যাতে তরুণরা সেখানে কাজের সুযোগ পায়। ভকশেনাল সেন্টারগুলো আপডেট করারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
শনিবার (২ মে) দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় সিলেট নগরীর উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুরমা নদীর পাড়ে আজ যে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো, এটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। নগরবাসীকে বন্যা ও জলজট থেকে মুক্তি দিতে এই প্রকল্প কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ এই অঞ্চলের সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডাবল লাইন চালু করা হবে। এছাড়া সিলেটের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় খাল খনন কর্মসূচি এবং সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমি যখন সিলেট এসেছিলাম তখন বলেছিলাম, সিলেট থেকে লন্ডনে যেতে ৯ থেকে সাড়ে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ সিলেট থেকে বাইরোডে ঢাকা যেতে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই আমি সিলেট-ঢাকা মহানসড়কের উন্নয়নের কথা বলেছিলাম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণ কাজের জমি অধিগ্রহণে ১১টি জায়গায় সমস্যা ছিল। এজন্য কাজ আটকে ছিল। এই সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে দূর করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারবো। কাজ শেষ হতে দেরি হবে। তবে শুরু হলে তো শেষও হবে। এতে মানুষের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব হবে।
তিনি বলেন, রাস্তা যত বড় করবে তত গাড়ি নামবে। তত ট্রাফিক জ্যাম বাড়বে। রাস্তা বড় করলে ফসলি জমিও নষ্ট হবে। এজন্য রেলের উন্নয়ন করতে হবে। আমরা ঢাকা-সিলেট রেল রেলপথেকে ডাবল লাইন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এগুলো চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। দরকার হলে প্রাইভেট খাতে ছেড়ে দিয়ে চালু করতে চাই। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টেরও চেষ্টা করছি।
এর আগে, সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে তাকে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ অন্যান্যরা।
এরপর প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার জিয়ারত করেন। জিয়ারত শেষে তিনি দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় মোনাজাত করেন।
সফরসূচি অনুযায়ী দুপুরে বহু প্রতীক্ষিত সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া খাল (বাসিয়া নদী) খননকাজের উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান।
এরপর সিলেট সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকাল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ উদ্বোধন এবং বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেবেন তিনি।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিমানযোগে তাঁর ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




