ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের ওসমানীনগর-এ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জালিয়াতি, প্রতারণা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ মকবুল হোসেন-কে গ্রেফতার করেছে ওসমানীনগর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মকবুল উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের রাইকদারা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রতারক চক্র পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্র দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে আসছিল। বিশেষ করে বিদেশগামী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের টার্গেট করে ভুয়া তথ্য ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রতারণা চালানো হতো। কাজ সম্পন্ন না করে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি এক ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসমানীনগর থানা পুলিশ-এর একটি বিশেষ টিম দয়ামীর ইউনিয়নের রাইকদারা গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে মকবুল হোসেনকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
পুলিশ জানায়, মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশি নথি অনুযায়ী মামলা নম্বর ১৬৮/২০২৫, ৪৫/২০২৫ ও ৩৭/২০২৬-এও তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এ চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ। একই সঙ্গে চক্রটির কার্যক্রম কতদূর বিস্তৃত ছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল সরকারি কাগজপত্রের নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসলেও ভুক্তভোগীরা নানা কারণে মুখ খুলতে সাহস পাননি। সাম্প্রতিক এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মোর্শেদুল আলম ভূইয়া গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিকে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে। তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




