চার বছর বয়সে রেলস্টেশনে হারিয়ে যাওয়া সেই স্বপ্না, ১৪ বছর পর বসলেন বিয়ের পিঁড়িতে
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৪ PM

স্বপ্না আক্তারের গল্প সেই মানবিক উদ্যোগেরই এক উজ্জ্বল উদাহরণ

চার বছর বয়সে রেলস্টেশনে হারিয়ে যাওয়া সেই স্বপ্না, ১৪ বছর পর বসলেন বিয়ের পিঁড়িতে

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩/০৫/২০২৬ ০৭:৩৫:৪৬ PM

চার বছর বয়সে রেলস্টেশনে হারিয়ে যাওয়া সেই স্বপ্না, ১৪ বছর পর বসলেন বিয়ের পিঁড়িতে

ছবি:সংগৃহীত


মাত্র চার বছর বয়সে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যস্ত প্ল্যাটফর্মে অসহায় অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল ছোট্ট এক শিশুকে। নিজের নামটুকুও ঠিকমতো বলতে পারত না সে। কোথা থেকে এসেছে, কার মেয়ে-কেউ জানত না। চোখজুড়ে ছিল ভয়, অনিশ্চয়তা আর হারিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক। সেই শিশুটিই আজ নতুন জীবনের পথে পা রাখলেন।

তার নাম স্বপ্না আক্তার। দীর্ঘ ১৪ বছর পর বুধবার (১৩ মে) দুপুরে সিলেটের শিবগঞ্জ লামাপাড়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন পরিচালিত সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তিনি। যে প্রতিষ্ঠান একদিন তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানই হয়ে উঠল তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্তের সাক্ষী।

বিয়ের আয়োজনজুড়ে ছিল ভালোবাসা, আবেগ আর মানবিকতার অনন্য এক চিত্র। সাজসজ্জা থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়ন-সবকিছুই ছিল একটি স্বাভাবিক পরিবারের মেয়ের বিয়ের মতো। উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কারণ, পরিবারহীন এক মেয়েকে ঘিরে এত মানুষের ভালোবাসা সত্যিই ছিল বিরল দৃশ্য।

সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্বপ্নাকে উদ্ধারের পর সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার বাবা-মা দুজনেই মারা গেছেন। ফলে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেখান থেকেই শুরু হয় তার নতুন জীবন। তাকে স্কুলে ভর্তি করা হয় এবং ধীরে ধীরে লেখাপড়া শিখে ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি।

বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস. এম. মোক্তার হোসেন বলেন, ‘স্বপ্নার বয়স এখন ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। কোনো অভিভাবক না থাকায় এবং তার সম্মতি নিয়েই আমরা বিয়ের আয়োজন করেছি। আমরা চেয়েছি, তার ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ ও সুন্দর হয়।’

পাত্র সিলেটেরই বাসিন্দা এবং ইলেকট্রিকের ঠিকাদারি কাজ করেন। বিয়ের আয়োজনকে ঘিরে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে আসেন। কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা স্বপ্নার নামে এফডিআর হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া স্থানীয় এক ব্যক্তি উপহার দিয়েছেন প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। পুনর্বাসন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। এমনকি একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান উপহার হিসেবে দেয় ১০০ কাপ দই।

সব মিলিয়ে পুরো আয়োজন ছিল আনন্দমুখর ও হৃদয়স্পর্শী। কেউ বুঝতেই পারেননি, এটি পরিবারহীন এক তরুণীর বিয়ে। বরং মনে হচ্ছিল, বহু আদরে বড় হওয়া কোনো মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুচিত্রা রায়, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র শুধু একটি পিতৃমাতৃহীন শিশুকে আশ্রয়ই দেয়নি, তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে জীবন গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজ তাকে বিয়ে দিয়ে তার ভবিষ্যতের ভিত্তিও তৈরি করে দিল।’

উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত, পথশিশু, ঝুঁকিতে থাকা ও পিতৃহীন শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়, ভরণপোষণ ও পুনর্বাসন সেবা দিয়ে আসছে। স্বপ্না আক্তারের গল্প সেই মানবিক উদ্যোগেরই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

হামের উপসর্গে কিশোরের মৃ'ত্যু, হাসপাতালে আরও শতাধিক
হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে
চিকিৎসার জায়গায় আ/তঙ্ক, বড়লেখার ৩ কমিউনিটি ক্লিনিক জরাজীর্ণ
সুরমার ৫১ কিমি ড্রেজিং ও তীর প্রতিরক্ষা কাজ সমন্বিতভাবে হবে: মুক্তাদির
নাগরিকদের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে: সিসিক প্রশাসক
পাঠানপাড়ায় সওজের জমিতে দেয়াল, ৭ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ
জৈন্তাপুরে বালুবাহী ট্রাক থেকে ৪৩৪১ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ, আটক ১
অনিয়ম ঠেকাতে দরকার স্থানীয়দের তদারকি: সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী
সিলেটে হাম ও উপসর্গে মৃ'ত্যু বেড়ে ১৮১, নতুন শনাক্ত ১২
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় পুষ্টিকে যুক্ত করার উদ্যোগের কথা জানালেন জিয়াউদ্দিন হায়দার