তাহিরপুরে হাঁসে খামার, ছবিঃ জৈন্তা বার্তা
তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওর বা নদীতে ঘুরলে দুর থেকে মনে হতে পারে একটু পরপর বুঝি ঝাঁকে ঝাঁকে শীতের অতিথি পাখি বসে আছে।কিন্তু খেয়াল করলে দেখা যাবে এগুলো দেশীয় প্রজাতির হাঁস। আর ছোট ছোট নৌকায় বসে হাঁসের ঝাক গুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন হাঁসের খামারের লোকজন। উপজেলার হাওরগুলোতে বেশ কিছু ছোট বড় খামার গড়ে উঠেছে। এই খামার করে স্বাবলম্বী হচ্ছে এলাকার বেকার যুবকরা।
শনির হাওরের জাঙ্গালের পাশে অস্থায়ী খামার করে হাঁস পালন করছেন ভাটি তাহিরপুর গ্রামের রবু মিয়া তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ হাঁসের খামার করে আসছি, হাঁসের খামার করে আমি এখন স্বাবলম্বী,আমার সফলতা দেখে আমার গ্রাম ছাড়াও পাশের গ্রামের অনেক বেকার যুবক হাঁসের খামার তৈরি করেছেন, তারাও খামার তৈরি করে লাভবান হচ্ছেন।আমি প্রতিবছর হাঁসের খামার থেকে দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা আয় করে থাকি,এক সময় হাওরে মাছ মেরে জীবিকা নির্বাহ করতে হতো এখন আর সেটা করতে হয় না, হাঁসের খামার থেকে যে মুনাফা অর্জন হয় সেটা থেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে সুন্দর ভাবে চলতে পারি পাশাপাশি সঞ্চয়ও করতে পারি।
গবীন্দশ্রী গ্রামের সফল হাঁসের খামারি জামরুল মিয়া বলেন, আমি প্রতি বছর ৭০০ থেকে ৮০০ হাস নিয়ে খামার করে থাকি,প্রতি বছর ভালো মুনাফা অর্জন হয়, আমাদের এলাকায় আগে হাঁসের খামার কম থাকলেও বর্তমানে এই ব্যাবসা লাভবান হওয়ায় অনেক বেকার যুবকেরা হাঁসের খামার তৈরি করছেন, হাঁসের খামার তৈরি করে অনেকেই ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন। তারা সফলতাও অর্জন করছেন। সরকার যদি খামারিদের স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে আরও বেকার যুবক এই ব্যবসায় মনোনিবেশ করতো।
তাহিরপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার হাবিবুর রহমান বলেন, হাঁস তার বেশিরভাগ খাবার তার চারপাশের প্রকৃতি থেকে গ্রহণ করে।তাই খামারিদের খাদ্য খরচ কম লাগে,অন্যদিকে হাঁসের রোগবালাই কম হয়। আমরা খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। বর্তমান সরকার বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করতে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আমাদের মাঠকর্মীরা সার্বক্ষণিক তাঁদের সহযোগিতা করছেন।
জৈন্তাবার্তা/এমকে




