ছাতকে আ ত্ম হ ত্যা র প্ররোচনায় স্বামীর ৫ বছরের কারাদ*ণ্ড
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৯ PM

ছাতকে আ ত্ম হ ত্যা র প্ররোচনায় স্বামীর ৫ বছরের কারাদ*ণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০/০৮/২০২৬ ০৬:২৫:৩১ PM

ছাতকে আ ত্ম হ ত্যা র প্ররোচনায় স্বামীর ৫ বছরের কারাদ*ণ্ড

সংগৃহীত


সুনামগঞ্জের ছাতকের বহুল আলোচিত নববধূ রুকসানা বেগম (২২) আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় তার স্বামী আলী হোসেনকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ হাবিবুর রহমান চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আলী হোসেন (৩২) পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আলী হোসেন ছাতক উপজেলার খুরমা উত্তর ইউনিয়নের বড়বিহাই গ্রামের সফর আলীর ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের নানকার গ্রামের মৃত আমিরুল ইসলামের মেয়ে রুকসানা বেগমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে আলী হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অযুহাতে পিত্রালয় থেকে যৌতুক আনার জন্য রুকসানাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। সময় মতো আবদার পূরণ করিতে না পারিলে রুকসানাকে মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করিয়া অশান্তিতে রাখিয়া তার স্বামী বলিত 'ফাঁসি দিয়ে মরতে পারস না, তোর বাপের বাড়ি গিয়ে ফাঁসি দিয়ে মর'। সংসার টিকিয়ে রাখতে নববধূ রুকসানা তার মা ও ভাইদের কাছ থেকে আবদারের বিভিন্ন জিনিসপত্র স্বামীকে আনিয়া দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। রুকসানার বিয়ের পর থেকেই তাহার স্বামী আলী হোসেন কর্তৃক দাম্পত্য জীবনে অবহেলা, মানসিকভাবে অশান্তিতে রাখিয়া প্রায় সময় আত্মহত্যা করার সহায়তা করিয়া প্ররোচনা দিতো। স্বামীর অত্যাচার, নির্যাতন, আত্মহত্যার প্ররোচনার কারণে মনের দুঃখে বিয়ের সাড়ে তিন মাস পর ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই সকালে তাহার স্বামী আলী হোসেনের বসত ঘরে বিদ্যুতিক সিলিং ফ্যানের সাথে গায়ের ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগাইয়া আত্মহত্যা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। নিহতের বোন নাজমা বেগম বাদী হয়ে ছাতক থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আলী হোসেনকে আসামী করে মামলা (নং-৩৩, তারিখ: ২৪/০৭/২০২৫) দায়ের করেন। পুলিশ আলী হোসেনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করে। পরে আলী হোসেন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক হয়।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছাতক থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) রঞ্জন কুমার ঘোষ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আসামির বিরুদ্ধে রুকসানাকে আত্মহত্যার প্ররোচনা প্রদান করায় পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৩০৬ ধারার আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করেন। গত ২২জুলাই মামলার শুনানি হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আলী হোসেনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদয় ৬মাসের কারাদণ্ডের রায় দেন।

মামলার বাদী নাজমা বেগম বলেন, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলাম। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এখন দ্রুত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করে রায় কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মোঃ চান মিয়া বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। আদালত ন্যায়সঙ্গত রায় দিয়েছেন।

জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা