হবিগঞ্জের মাধবপুরে বিয়ের কনে দেখানোর কথা বলে এক ব্যক্তিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে চোখ বেঁধে মারধর ও টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে বিকাশে পাঠানো ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীর কাছে ফেরত দিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী বকুল মিয়া মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ভান্ডারুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় সাংবাদিক আলমগীর কবিরের মামা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে বকুল মিয়া মাধবপুরে এলে এক ব্যক্তি তার সঙ্গে পরিচিত হন। ওই ব্যক্তি বকুল মিয়াকে জিজ্ঞেস করেন তাঁর নাম বকুল কি না। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ওই ব্যক্তি জানান, তিনি বকুল মিয়ার ভাগ্নের জন্য একটি মেয়ের সন্ধান পেয়েছেন এবং মেয়েটিকে দেখাতে পারবেন।
এ কথা বলে ওই ব্যক্তি বকুল মিয়াকে বিশ্বরোড এলাকায় নিয়ে যান এবং সরাইলে গিয়ে মেয়েটিকে দেখানোর কথা বলে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠতে বলেন। বকুল মিয়া অটোরিকশায় ওঠার পর আরও দু'জন ব্যক্তিও তাতে ওঠেন। এরপর কিছুসূর গিয়ে তারা বকুল মিয়ার চোখ বেঁধে মারধর করেন।
একপর্যায়ে বকুল মিয়াকে বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দেওয়া হয়। প্রথমে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হলেও পরে ৩০ হাজার টাকায় দফারফা হয়। পরিবারের সদস্যরা ওই টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠানোর পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে পরিবারের লোকজন বকুল মিয়াকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজারের একটি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।
বিষয়টি মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মো. সোহেল রানাকে জানানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি টাকা পাঠানো বিকাশ নম্বরগুলো পুলিশকে দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর ওসি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট নম্বরগুলো ব্লক করার ব্যবস্থা করেন।
পরবর্তীতে পাঠানো ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করে রবিবার (২৩ আগস্ট) ভুক্তভোগী বকুল মিয়াকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মাধবপুর থানার ওসি মো. সোহেল রানার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক আলমগীর কবিরের পরিবার।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে বকুল মিয়াকে ডেকে নিয়ে গিয়ে অপহরণ ও মারধর করে টাকা আদায় করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
জৈন্তাবার্তা/আরআর




