ছবি:সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর বাঁধের মাটি প্রকাশ্যে কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দিনের বেলায় নৌকা নিয়ে নদীর পাড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি কেটে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য স্থানীয়দের নজরে এসেছে। এতে বাঁধের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের নলজুর নদীর ওপর নির্মিত স্টিলের ব্রিজের পশ্চিম দিকে কিছুদূর এগোলেই নদীর পাড়ের নির্জন এলাকায় মাটি কাটার চিত্র দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর পাড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে নৌকা দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্টিলের ব্রিজ থেকে কাটাগাং, বটডর ও ইসমাইল চক এলাকার মধ্যবর্তী নদীর পাড়ের বেশ কিছু অংশে মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম। স্থানীয়দের দাবি, নির্জনতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাড় ও বাঁধের বিভিন্ন অংশ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এভাবে বাঁধের মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের চাপের কারণে বাঁধের দুর্বল অংশগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এতে আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও হাওর এলাকার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতি বছর হাওর ও নদী রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়। সেই বাঁধের মাটি অবৈধভাবে কেটে নেওয়া হলে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি হাওর এলাকার সুরক্ষাও বিঘ্নিত হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মাটি কাটার সঙ্গে কারা জড়িত, কোথা থেকে মাটি কাটা হচ্ছে এবং কেটে নেওয়া মাটি কোথায় ব্যবহার বা বিক্রি করা হচ্ছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে বাঁধের মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করতে হবে।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নলজুর নদীর বাঁধের আরও বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




