ছবি:সংগৃহীত
লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা জার্সিতে শেষ ম্যাচ-এমন উপলক্ষ ঘিরে দেশটিতে যে উন্মাদনা তৈরি হবে, সেটাই যেন দেখা গেল টিকিট বিক্রির শুরুতেই। বিক্রি শুরুর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অতিরিক্ত চাপের কারণে ক্রাশ করে যায় টিকিট বিক্রির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। শেষ পর্যন্ত দুই ঘণ্টারও কম সময়ে ম্যাচটির সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায় বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম।
ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচেই জাতীয় দলের হয়ে শেষবার মাঠে নামার কথা রয়েছে মেসির।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ম্যাচটির টিকিট বিক্রি শুরু হয়। টিকিট বিক্রির দায়িত্বে ছিল ‘ডেপোরটিক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বিক্রি শুরুর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই লাখো সমর্থক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন। বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর চাপ সামলাতে না পেরে একপর্যায়ে সাইটটি অচল হয়ে পড়ে।
অনেক সমর্থকের সামনে তখন বার্তা দেখানো হয়, টিকিট কেনার সুযোগ পেতে তাঁদের আরও এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও অভিযোগও জানান অনেকে। দীর্ঘ ভার্চ্যুয়াল লাইনে থেকেও টিকিট পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয় সমর্থকদের মধ্যে।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’র সাংবাদিকেরাও টিকিট কেনার প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করেন। ভার্চ্যুয়াল কিউতে প্রবেশের প্রায় ৭০ মিনিট পরও তাঁদের সামনে একই বার্তা ছিল—টিকিট কেনার সুযোগ পেতে আরও এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হবে।
মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৮৫ হাজার। তবে স্টেডিয়ামের সব আসনের টিকিট সাধারণ দর্শকদের জন্য ছাড়া হয়নি। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) স্পনসর ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নির্দিষ্টসংখ্যক টিকিট বরাদ্দ রাখে। ফলে সাধারণ সমর্থকদের জন্য বিক্রিযোগ্য টিকিটের সংখ্যা ছিল আরও কম।
‘ওলে’ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে এক সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। এতে দেখা যায়, তিনি দীর্ঘ ভার্চ্যুয়াল লাইন পার হয়ে টিকিট কেনার সুযোগ পেয়েছেন। তখন শুধু ওপরের সারির কিছু আসনের টিকিট অবশিষ্ট ছিল। এসব টিকিটের দাম ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার পেসো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ হাজার টাকা।
এর মাত্র ১৩ মিনিট পর, সন্ধ্যা ৭টা ২৮ মিনিটে আরেক ব্যবহারকারী জানান, সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। অথচ তখনও অনেক সমর্থকের ওয়েবসাইটে এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার বার্তা দেখাচ্ছিল।
মেসির জাতীয় দলের হয়ে সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনায় যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, টিকিট বিক্রির এই চিত্রই তার বড় প্রমাণ।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




