হাইল হাওরকে ময়লার ভাগাড় বানানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৪ PM

হাইল হাওরকে ময়লার ভাগাড় বানানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন

রবি উদ্দিন, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭/০৯/২০২৬ ০২:৩৯:০৭ PM

হাইল হাওরকে ময়লার ভাগাড় বানানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন


মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যের আধার হাইল হাওরে শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিবেশ রক্ষা ও হাওরের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার দাবিতে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বিলাসের পাড় এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, মৎস্যজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “পলিথিন আর প্লাস্টিকে হাওরের মিষ্টি পানি আজ বিপন্ন”, “আমাদের পরিচ্ছন্ন শহর চাই, হাওরকে ময়লার ভাগাড় বানানো নয়” এবং “হাওর বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, প্রকৃতি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে”।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আনোয়ার মিয়া, সারফিন আহমদ, বিল্লাহ আহমদ ও সালমান মিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সচেতন ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, শ্রীমঙ্গল শহরের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য হাইল হাওর এলাকায় ফেলার উদ্যোগ পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাওরের পানি, মাছ, জলজ প্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিক ও পলিথিনজাত বর্জ্য দীর্ঘমেয়াদে পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

তারা বলেন, হাইল হাওর শুধু একটি জলাশয় নয়; এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিগুলোর একটি। প্রতিবছর অসংখ্য অতিথি পাখি, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে হাওরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই পরিবেশ ধ্বংসকারী যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে হাওরকে রক্ষা করা সময়ের দাবি।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে হাইল হাওরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ, পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং বিকল্প স্থানে ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

কর্মসূচি শেষে হাইল হাওর রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয়রা।

জৈন্তাবার্তা/আরআর



শীর্ষ সংবাদ: