নজিরবিহীন বি ক্ষো ভে উত্তাল ফ্রান্স, ব্যাপক সং ঘ র্ষ
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন

নজিরবিহীন বি ক্ষো ভে উত্তাল ফ্রান্স, ব্যাপক সং ঘ র্ষ

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮/১০/২০২৬ ০৭:৪৮:৩০ অপরাহ্ন

নজিরবিহীন বি ক্ষো ভে উত্তাল ফ্রান্স, ব্যাপক সং ঘ র্ষ

সংগৃহীত


জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিরতার পর আজ রোববার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বিভিন্ন শহর পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে।

এ ঘটনায় একজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য। গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় সরকারি ভবনে আগুন দেওয়া, দোকানপাটে লুটপাট এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। কোথাও কোথাও ভবনের দেয়ালে গ্রাফিতিও আঁকা হয়।

প্যারিসে বিক্ষোভ চলাকালে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ৮৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যা সেখানে এক দিনে গ্রেপ্তারের রেকর্ড বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশজুড়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৮০০। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক ডজন শহরে আয়োজিত মিছিলে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। এক মাস ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈষম্য এবং সরকারি সেবার অবনতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভও যুক্ত হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের বড় একটি অংশ শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলেও কিছু সহিংস গোষ্ঠী সরকারি ভবন, বিলাসপণ্যের দোকান ও সুপারমার্কেটে হামলা চালায়। পুলিশের গাড়ি ও সদস্যদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের লিমোজ শহরে ১৪৩ বছরের পুরোনো সিটি হলে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে ভবনটির বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটির মেয়র গিয়োম গেরাঁ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভবনটি সংস্কারে ১০ লাখ ইউরো সহায়তা না পেলে পদত্যাগের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের লিল থেকে দক্ষিণের মার্সেই, পূর্বের স্ত্রাসবুর্গ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের বোর্দো—বিভিন্ন শহরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। বোর্দোতে মুখোশধারী একটি দল স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তার বাসভবনে ঢুকে পড়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, শনিবার কয়েক শ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বোর্দোর মেয়র থমাস কাজনাভের ভাষ্যমতে, শহরটিতে প্রায় ১০০টি দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে। মার্সেইয়ের মেয়র সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ক্যারিফোরের প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, তাদের ৫০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২০টিতে লুটপাট চালানো হয়। এতে কয়েক কোটি ইউরোর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীদের দায়ী করেছেন। অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেসক্যুর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

আগামী বছর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এর আগে ক্রমবর্ধমান সামাজিক অসন্তোষ ও সহিংসতা মাখোঁর সরকারকে নতুন চাপে ফেলেছে। 

জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ: