ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রঘুপুর ও সদর উপজেলার মেদিনী মহল মৌজায় অপরিকল্পিত খাল খননের উদ্যোগে উর্বর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এ কর্মসূচি প্রত্যাহার ও কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে পৃথকভাবে এসব স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্বনাথ উপজেলার ২ নম্বর খাজাঞ্চী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুপুর মৌজার (জেএল নম্বর ২৯) বাসিন্দাদের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন কৃষি। তাঁদের অভিযোগ, সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় একটি মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগে রঘুপুর মৌজার প্রায় ৩৫ একর এবং সদর উপজেলার মেদিনী মহল মৌজার প্রায় ৩ একর উর্বর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, খাল খনন কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য কৃষির উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা। কিন্তু প্রস্তাবিত স্থানে খাল খনন করা হলে কৃষিজমির ক্ষতি হতে পারে। পূর্বশত্রুতা কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের কারণে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
কৃষকদের দাবি, প্রস্তাবিত জমিগুলো একসময় সুরমা নদীর অংশ ছিল। প্রায় একশ বছর আগে নদীটি ভরাট হয়ে এসব জমি কৃষিজমিতে পরিণত হয়। স্মারকলিপিতে ১২০১ বঙ্গাব্দের হালাবাদী চিঠিয়ার উল্লেখ করে বলা হয়, জমিগুলো তাঁদের পূর্বপুরুষদের মালিকানাধীন ও দখলে ছিল। বর্তমানে তাঁদের উত্তরসূরিরা এসব জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, সেখানে খাসজমি না থাকা সত্ত্বেও খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত স্থানের প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার পশ্চিমে পুরোনো সুরমা নদীর ভরাট মুখে একটি সচল খাল রয়েছে। ওই খাল দিয়ে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশিত হয়। শীত মৌসুমে পানি আটকে থাকায় কৃষকেরা সেখানে শাকসবজিও চাষ করতে পারেন। তাই নতুন করে খাল খননের আগে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী কৃষকদের মতে, প্রস্তাবিত খননকাজ বাস্তবায়িত হলে উর্বর কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে কৃষিজমি ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কর্মসূচিটি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
স্মারকলিপিতে মো. কয়েছ মিয়া, শফিক মিয়া, রফিক মিয়া, মতছির আলী ও দুলাল আহমদসহ এলাকার ১৫ জন ভুক্তভোগী কৃষক স্বাক্ষর করেছেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন মো. কয়েছ মিয়া, শফিক মিয়া, রফিক মিয়া, মতছির আলী, দুলাল আহমদ, আলাল মিয়া, আব্দুল মতিন, আব্দুল আজিজ, আল আমিন, আব্দুল কাদির, আব্দুল হাইয়ান, আব্দুল মন্নান, আব্দুস শহীদ, আব্দুস ছামাদ ও জালাল উদ্দিনসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




