ওসমানী হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও সুষ্ঠু সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা

ওসমানী হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১/১০/২০২৬ ০৭:১৬:৩০ অপরাহ্ন

ওসমানী হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

ছবি:সংগৃহীত


সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। তাঁরা বলেছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকার বাধাগ্রস্ত করতেই সাংবাদিকদের ওপর এ ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলা শুধু সাংবাদিকদের ওপর নয়, পুরো সিলেটবাসীর ওপর আঘাত।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সর্বস্তরের সাংবাদিকদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। তাঁরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে সমাবেশে সঞ্চালনা করেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। এতে সিলেটের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, এ প্রতিবাদ সমাবেশ শুধু সাংবাদিকদের নয়, পুরো সিলেটবাসীকে জাগ্রত করার সমাবেশ। অতীতে ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনের সময় সাংবাদিকেরা তাঁদের পাশে থেকে সংবাদ প্রচার করেছেন। অথচ এর প্রতিদানে সাংবাদিকদের রক্তাক্ত হতে হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করে রোগীদের জিম্মি করার সংস্কৃতি কোনোভাবেই চলতে পারে না।

বক্তারা আরও বলেন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেটবাসীর সম্পদ। এখানে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাঁরা অবিলম্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ঘটনার তিন দিন পার হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিক নেতারা। তাঁরা বলেন, অতীতে হাসপাতালের অচলাবস্থা নিরসনে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ভূমিকা পালন করেছে। অথচ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ হামলা পুরো চিকিৎসক সমাজের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধ করে প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজন ও সাধারণ মানুষকে হেনস্তা এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। গত বুধবার দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তাঁরা।

বক্তারা বলেন, কোনো আপসকামী সমাধান নয়; সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই বৈঠক করে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের জ্যেষ্ঠ সদস্য অধ্যক্ষ লিয়াকত শাহ ফরিদী, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইমজা) সিলেটের সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান রিপন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি মাহবুব), সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গুলজার আহমদ হেলাল এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ূন কবীর লিটন। এ ছাড়া সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আহমদ রনি বক্তব্য দেন।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব, দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথসহ বিভিন্ন উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাব এবং বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দও। সিলেট কল্যাণ সংস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সমাবেশে বক্তব্য দেন ও সংহতি প্রকাশ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল আজাদ, দৈনিক সমকালের ব্যুরোপ্রধান মুকিত রহমানী, দৈনিক উত্তর পূর্বের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোহাম্মদ মহসিন, চয়ন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, ইমজার সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান, জেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সজল ঘোষ, সহসাধারণ সম্পাদক রবি কিরণ সিংহ রাজেশ, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সরকার, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আহাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রেজাউল হক ডালিম, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক আহমেদ জামিল, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বিলকিস আক্তার সুমি, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাকিলা ববি এবং সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ কাউছার চৌধুরী।

আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মকসুদ আহমদ, দৈনিক কাজিরবাজার পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সোয়েব বাসিত, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য নবীন সোহেল, রনজিৎ কুমার সিংহ, তুহিন আহমদ ও রাজীব রাসেল, সিলেট কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের, সাংবাদিক নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ইউসুফ আলী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি ও আধুনিক কাগজের প্রকাশক সাঈদ চৌধুরী টিপু, ক্লাব সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, আজকের সিলেটের সম্পাদক রজত কান্তি চক্রবর্তী, দেবব্রত রায় দিপন, সাংবাদিক রাশেদুল হোসেন সুয়েব, পিংকু ধর, এনামুল কবীর, সাঈদ নোমান, মো. আহসান হাবীব, মোজ্জাম্মেল আহমদ, লুৎফুর রহমান, মোহাম্মদ কামরুল হাসান, মাকসুদ হোসেন, মোখলেছুর রহমান, শামীম হোসেন সামী, আলমগীর আলম, কামরুল হাসান বুলবুল, মাকসুদুর রহমান নাহিদ, এস. এম. সুজন, বাপ্পা মৈত্র, রোমান আহমদ, জিকরুল ইসলাম, আতিকুর রহমান নগরী, আহমদ আলী হিরন, মো. আবদুর রাজ্জাক, আহমদ আলহাদী, মো. চমক আহমেদ, মো. আব্দুল মজিদ চৌধুরী, শাহ মিনশাদ আলম, সুব্রত দাস, পিয়াল আহমদ, সন্দীপন শুভ, মো. আহমদ শিপন, জহিরুল ইসলাম সিপু, শহীদুল রহমান জুয়েল, মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, সাকির আল মামুন, সমাজসেবী শাহজাহান মাস্টার, সাংবাদিক কামাল আহমদ, ফারহান ইসলাম রাজু, মাহফুজুর রহমান সামি, নূর আলম, হোসাইন ইকবাল, হিমেল হাসান, মো. এমদাদুল হক, মো. মতিউর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক শাওন, শিব্বির আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, শহিদুল ইসলাম সবুজ, ফাহিম আহমদ, সাইফুর রহমান, রাজু আহমেদ, রহমতুল হোসেন লস্কর, নোমান ফয়সল, আশিক উদ্দিন, সাগর হাসান শুভ, মো. মুজিবুর রহমান, ফয়জুল আহমদ, শ্যামল নন্দী, মো. আফজাল হোসেন, মো. সালেক আলী খান, ফয়জুল কাদির, সৈয়দ আলমগীর, মেহেদী হাসান লিটু, এস কে তুহিন, সুমাইরুল ইসলাম রাহাত, মররুর আহমদ রাজু, মো. মারুফ হাসান, মো. সোহাগ, আনোয়ার হোসেন, মোবারক হোসেন বাপ্পু, তুহিন সরকার, তারেক চৌধুরী রাহেল, কাইয়ুম আল রানি, শিমুল চন্দ্র (জয়), আমজাদ আলী ও সুরত আলী মিয়া প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের খবর পেয়ে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে যান দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল এবং নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল সিলেটভিউ২৪-এর নিজস্ব প্রতিবেদক নিবেন্দু তালুকদার। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার শিকার হন তাঁরা। দুজনই সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য।

অভিযোগ অনুযায়ী, ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে তাঁদের মাথায় আঘাত করেন এবং বেধড়ক মারধর করেন। এতে দুজনই রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। নিজেদের পরিচয়পত্র বারবার দেখানোর পরও হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পাননি তাঁরা।


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

জৈন্তাপুরে ভূমি জরিপের খবরে পাঁচ মৌজার মানুষের বি/ক্ষো/ভ
ওসমানী হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
জৈন্তা বার্তা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রশিদ হেলালীর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
জাফলংয়ে মাটিচা/পা পড়ে শ্রমিকের মৃ/ত্যু
এইচএসসি: সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ফলাফল
এইচএসসি ফল প্রকাশ: সিলেটে পাশের হার ৫০.৯০ শতাংশ
দেশের বাজারে আবার কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা হ্রাস
কুলাউড়ায় সা*পের কামড়ে মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃ*ত্যু
নিখোঁজের সাড়ে ৩ বছর পর সেফটিক ট্যাংকে মিলল কঙ্কাল, আটক ৪
আগামীকাল এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, জানা যাবে যেভাবে