দোয়ারাবাজারে শিশু-কিশোরদের হাতে অটোরিকশা, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৬ PM

দোয়ারাবাজারে শিশু-কিশোরদের হাতে অটোরিকশা, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭/১২/২০২৩ ০৬:২৪:৪২ AM

দোয়ারাবাজারে শিশু-কিশোরদের হাতে অটোরিকশা, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

দোয়ারাবাজারে শিশু-কিশোরদের হাতে অটোরিকশা। ছবি: জৈন্তা বার্তা


সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নয় ইউনিয়নের অলিগলিতে শত শত লাইসেন্সবিহীন ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। আর এসব অটোরিকশা চালকদের অধিকাংশই শিশু-কিশোর।

অটোরিকশাগুলোর নেই ফিটনেস, রোড পারমিট ও চালকদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। যে কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। গাড়ি হিসেবে এসব যানবাহন স্বীকৃতি না পেলেও উপজেলার আনাচে কানাচে এসব রিক্সার ছড়াছড়ি।

এসব অদক্ষ চালকদের অনেকেরই প্রতিষ্ঠানিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা না থাকায় যাত্রীদের সাথে চালকদের ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে। অদক্ষ রিকশা চালকদের অনেকেই জোর করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এসব অটো রিকশা চালকদের কোনো লাইসেন্স প্রদান করা না হলেও উপজেলায় রিকশা চালনায় শিশু চালকদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া অটো রিকশা চালকদের কোন ভাড়া নির্ধারণ না থাকায় তাদের ইচ্ছেমতো বেপরোয়া চলাচল ও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।

উপজেলায় অটো রিকশা চালকেরা ১০ টাকার ভাড়ার জায়গায় ২০-৩০ টাকা আদায় করে থাকে। যাত্রীরা চালকদের কথা মতো ভাড়া না দিলে অনেক রিকশা চালক যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। অটো রিকশা চালকরা উপজেলার বিভিন্ন  রাস্তার মাথায় এবং বিভিন্ন বাজারের  অলি-গলিতে এলোমেলোভাবে অটো রিকশা রাখে। ফলে পথচারীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এসব অটো রিক্সা বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যাপক যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে। এসব অটো রিকশার নেই কোনো নির্ধারিত স্ট্যান্ড।

যাত্রীদের অভিযোগ, ছোট শিশু কিশোররা অটো রিকশা চালানোর ক্ষেত্রে রাস্তার এপাশ-ওপাশ, ডান-বাম, সাইট কিছুই চেনে না। তবুও তারা রিকশা চালক। অদক্ষ এইসব চালকেরা রাস্তায় অতিদ্রুত গতিতে রিকশা চালাতে গিয়ে বহু দুর্ঘটনাও ঘটছে।

উপজেলার সচেতন মহলের দাবি উপজেলার সর্বত্র লাইসেন্সবিহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছোট ছোট বাচ্চারা অগণিত রিকশা-অটোরিকশা চালাচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদ বিধি মোতাবেক লাইসেন্স প্রদানসহ ভাড়ার তালিকা দৃষ্টিগোচর স্থানে ঝুলিয়ে দেওয়ার বিধান থাকলেও তা পালন করা হচ্ছে না।প্রশাসনের কঠোর নজরদারী না থাকায়, অথবা মাসিক মাসোহারায় এসব শিশু কিশোর চালকরা অবৈধ রিকশা পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এতে দিন দিন জঞ্জাল বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এ ব্যাপারে যেনো অচিরেই স্থানীয় প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে বিধি মোতাবেক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন

জৈন্তাবার্তা/জেএ



শীর্ষ সংবাদ: