এম এ মান্নান।
পরিকল্পনামন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী এম এ মান্নানের বেতনের বাইরে কোন আয় নেই। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি এই তথ্য উল্লেখ করেছেন।
দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এমপি, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এম এ মান্নানের নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তার সম্পদ ছিল ২ কোটি ৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকার। গত ১৫ বছরে বেতন ভাতাসহ আয় হয়েছে ২ কোটি ৩৪ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ টাকা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৪ হাজার ১০২ টাকা সম্পদের হিসেব প্রদর্শন করেছেন।
সুনামগঞ্জের সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত এম এ মান্নানকে এলাকাবাসী মন্নান সাব নামে ডাকেন। দীর্ঘ তিন মেয়াদে এমপি, প্রতিমন্ত্রী ও সব শেষে মন্ত্রী হিসেবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক কালিমা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। নিজের পৈতৃক ভিটেমাটি তিনি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য সরকারকে দান করে দিয়েছেন।
২০০৫ সালে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পরে সুনামগঞ্জ-৩ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ (শান্তিগঞ্জ)- জগন্নাথপুর) আসনে উপনির্বাচনে তৎকালীন চারদলীয় জোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী সঙ্গে সামান্য ভোটের ব্যবধানে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মান্নান পরাজিত হন।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এম এ মান্নান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নৌকা মার্কায় জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ওই নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশাকে ৭৭ হাজার ৫২২ ভোটে পরাজিত করেন এম এ মান্নান বিজয়ী হন। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৩ সালে টানা ১৫ বছর তিনি সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চতুর্থবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন।
এমপি, মন্ত্রী ছাড়াও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর দায়িত্বশীল পদ ও কমিটিতে দায়িত্ব পালন করা এমএ মান্নান দেশে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পেশা কোঠায় ‘পরিকল্পনামন্ত্রী ও সংসদ সদস্য’ উল্লেখ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আগেও কোন মামলা ছিল না, এখনও কোন মামলা নেই।
হলফনামায় পেশা হিসেবে তিনি শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন ও পরামর্শক উল্লেখ করেছেন। এসব পেশা থেকে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি বাৎসরিক আয় করেন ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, চাকরির থেকে ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ২১২ টাকা, অন্যান্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে, নিজ নামে নগদ ৩৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫১ টাকা, স্ত্রী ও নিজ নামে ৩১ লাখ ৫০ হাজার ৮৮৫ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১ কোটি ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৪২৮ টাকা। পোস্টাল সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৬০ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে ৫৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, হার্ডজীপ ১ কোটি ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, স্ত্রী ও নিজ নামে ৫০ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ২ লাখ টাকার, আসবাবপত্র ১ লাখ টাকার, অন্যান্য ১৫ লাখ ১ হাজার ৫৬০ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে কৃষি জমি নিজ নামে ১০ লাখ টাকার মূল্যের ৫.৩৪ একর, স্ত্রী’র নামে ২০ হাজার টাকার অকৃষি জমি, নিজ নামে ৫২ হাজার টাকার ০.১৩ একর পুকুর।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করেছেন, এলাকাবাসীকে দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ৯০ প্রতিশ্রুতিই তিনি পূরণ করেছেন। নির্বাচনী এলাকায় স্থাপন করেছেন।
কুশিয়ারা নদীর ওপর সিলেট বিভাগের বৃহত্তম রানীগঞ্জে সেতু নির্মাণ, জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজকে সরকারিকরণ, সুনামগঞ্জের কাঠইর এলাকায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ, শান্তিগঞ্জে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট নির্মাণ, শান্তিগঞ্জকে উপজেলায় উন্নীতকরণ, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ শিল্প ও গবেষণা কেন্দ্র (বিটাক), টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাথারিয়া সেতু, নোয়াখালী সেতু নির্মাণসহ বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমি নিজের জন্য রাজনীতি করি না। সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করি। হাওরাঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য আমার জীবন অনেক আগেই উৎসর্গ করেছি। আমি জনগণের সেবক জনগণের জন্য কাজ করা আমার প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এতো বছরের আমি এক টাকার সম্পদ নিজের জন্য করিনি, করবো না।
তিনি বলেন, নিজের পৈত্রিক ভিটেতে আমার যে অংশ ছিল, সেটি সরকারকে দান করেছি। সেখানে একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের কাজ চলছে। ডুংরিয়ার পৈতৃক বাড়ি সরকারকে দান করার পর শান্তিগঞ্জে হিজল করচ নামে একটি বাড়ি আমার স্ত্রী ও ছেলে কিনে দিয়েছে। সেখানে আমি বাস করি। রাজধানীর আশুলিয়ায় চার শতক জমি ছাড়া ঢাকায় আর কোন জায়গা জমি আমার নেই। এটি আমার চাকরি জীবনে কিনেছিলাম। ডুংরিয়া গ্রামের পাশের হাওরে তার কিছু বোরো জমি আছে। সেখান থেকে কোন ধান তিনি পান না।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, জাকের পার্টির মো. নজরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির তৌফিক আলী মিনার, জাতীয় গণফ্রন্ট’র তালুকদার মকবুল হোসেন।
শিক্ষায় সম্পদে এই আসনের সকল প্রার্থীর চেয়ে সব দিকে এগিয়ে আছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এই আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েক জন নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরে তারা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আর কোন মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




