ছবি : প্রতিনিধি
ছাতকে পিডিবির সাব ঠিকাদারি নিয়ে চার বছর ধরে বিরাট সংখ্যক শ্রমিকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বিপুল টাকা খরচ করে কাজ সম্পন্ন করার পর পাওনা সাড়ে ছয়ত্রিশ লাখ টাকা দিতে নানারকমের টালবাহানা করে এই টাকা আত্মসাত করার চেষ্টায় লিপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স টি আর এন্টারপ্রাইজ এর প্রোপাইটর আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন সাব ঠিকাদার আবদুল খালিক।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে আগামী ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।
আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার পুরান বাঁশতলা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও বর্তমানে সুনামগঞ্জ শহরের ১৩ নম্বর পৌর বিপনীস্থ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স টি আর এন্টারপ্রাইজ এর প্রোপাইটর আজিজুর রহমানের সাথে ছাতক, দোয়ারাবাজার ও সিলেটে পিডিবির সংস্কার, পুল,লাইন নির্মাণসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সমাধার জন্য সাব ঠিকাদার হিসেবে ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ চুক্তিবদ্ধ হন সিলেট শহরের জালালাবাদ থানাধীন নেহারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল খালিক।
সাব ঠিকাদার আবদুল খালিক ঠিকাদার আজিজুর রহমানের অনুরোধে সরল বিশ্বাস ও আস্থায় নিজে ধার কর্জ করে শ্রমিকের পাওনা পরিশোধের মাধ্যমে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বাদি সাব ঠিকাদার আবদুল খালিক অভিযুক্ত আসামি আজিজুর রহমানের কাছে তার প্রাপ্য টাকা চাইলে হিসাব নিকাশের কথা বলে কাল ক্ষেপণ করতে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে কালক্ষেপণ করতে থাকায় বাদি আবদুল খালিক মারাত্মক আর্থিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন।বাদীর হিসাবমতে ছাতক অঞ্চলে সম্পন্নকৃত কাজের বিল বাবত পাওনা ১৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং সিলেটের শাহপরান অঞ্চলে সম্পন্নকৃত কাজের বিল বাবত ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৫ শ' টাকা পাওনা রয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে শুরু হয়ে ১৬ জানুয়ারি ২০২১ সালে সম্পন্ন হওয়া এই কাজের মোট পাওনা ৩৬ লাখ বায়ান্ন হাজার ৫ শ' টাকা।
বাদি ও পাওনাদার সাব ঠিকাদার আবদুল খালিক তার এই বকেয়া পাওনা টাকার জন্য ঠিকাদার ও দেনাদার আজিজুর রহমানের কাছে ক্রমাগতভাবে বার বার অনুনয় বিনয় ও অনুরোধ জানিয়েও টাকা আদায় করতে চরমভাবে ব্যর্থ হন।
বাদী আবদুল খালিক বিষয়টি সিলেট পিডিবি কর্তৃপক্ষকেও জানান। পিডিবি কর্তৃপক্ষও ঠিকাদার আজিজুর রহমানকে ডেকে নিয়ে তাড়াতাড়ি টাকা পরিশোধের জন্য অনুরোধ করেন।কিন্তু কিছুতেই তিনি টাকা পরিশোধ করেননি।
এমনকি শেষ পর্যন্ত গত ২৬ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে টাকার জন্য চাপ দিলে ঠিকাদার আজিজুর রহমান
পাওনা টাকার কথা অস্বীকার করেন। তার এমন প্রতারণামুলক কথাবার্তা শুনে বাদি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এ অবস্থায়ও আবারও অনুনয় বিনয় করে গত ২৮ সেপ্টেম্বর টাকার জন্য মোবাইল ফোনে চাপ দিলে আজিজুর রহমান আর টাকা চাইলে পাওনাদার আবদুল খালিককে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
বাদী আবদুল খালিক, কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শ্রমিক ও এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের ৫ জন সদস্য এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে পিবিআই সরেজমিন তদন্ত করলে ঘটনার সত্যতা অবশ্যই জানতে পারবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদির আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ মনির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পিবিআইকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত। আগামী জানুয়ারী মাসের ১০ তারিখ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আসামি ঠিকাদার আজিজুর রহমানের ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




