জয়া সেনগুপ্ত ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পুলিশের আইজির ভাইয়ের পক্ষে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এমপি জয়া সেনগুপ্ত। সোমবার তিনি গণমাধ্যমে এই অভিযোগ করেন।
প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী জয়া সেনগুপ্ত বলেন, ‘আমি রোববার নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমানের কাছে এই কথা জানিয়েছি। দিরাই থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী নৌকার প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের (আল আমিন চৌধুরী) পক্ষে কাজ করছেন এবং তিনি নিজেকে ওই এমপি প্রার্থীর আত্মীয় পরিচয় দিচ্ছেন। ওসি আওয়ামী লীগ নেতাদের বিএনপি নেতা-কর্মী বানিয়ে তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছেন। তিনি ইতিমধ্যে আমার সমর্থক জগদল ইউনিয়নের কলিয়ার কাপনের ইউপি সদস্য মো. রুমেন ও কালধর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা তাজ উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছেন। অথচ তাঁদের নামে থানায় কোনো মামলা নেই।’
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে দিরাই থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি কারওর পক্ষে কাজ করছি না। আমি এখানে কাজ করতে এসেছি। এখানে আমার কেউ আত্মীয়ও নন। তিনি পক্ষপাতিত্বের যে অভিযোগ দিয়েছেন, সেটি মিথ্যা।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে পুলিশি অভিযানের ব্যাপারে ওসি বলেন, ‘নিয়মিত রুটিন কাজ হিসেবে আমরা নাশকতা পরিকল্পনাকারী এবং মামলার আসামিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছি।’
জয়া সেনগুপ্তার অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘আমি আইজিপির ভাই হয়ে নির্বাচন করছি, সেটা অনেকের পছন্দ হচ্ছে না। তাই মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মানুষকে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখানে আমার পক্ষে কোনো কর্মকর্তাকে কাজ করতে হবে না। কারণ আমার ভাই যখন ডিআইজি ছিলেন, সেই সময়ও আমি নির্বাচন করেছিলাম। তখন কেউ আমাকে কিছু বলেনি। কিন্তু এবার যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছেন, সে জন্য অনেকের সেটি সহ্য হচ্ছে না।’
গত ৭ ডিসেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) মো. কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা থেকে ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীকে দিরাই থানায় বদলি করা হয়।
উল্লেখ্য, এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান ঈগল প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




