ভারতের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়িতে বাংলাদেশীদের প্রবেশ টিকেটের বৈষম্য
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:৫৮

বন্ধের দাবী

ভারতের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়িতে বাংলাদেশীদের প্রবেশ টিকেটের বৈষম্য

কলাম লেখক

প্রকাশিত: ২৫/১২/২০২৩ ০৬:২২:১৭

ভারতের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়িতে বাংলাদেশীদের প্রবেশ টিকেটের বৈষম্য

ভারতের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি।


আশীষ দাশ গুপ্ত,আগরতলা (ভারত) থেকে ফিরে॥ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের  আগরতলা শহরে অবস্থিত ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী  প্রাচীন রাজবংশের  আদি নিবাস রাজবাড়ী। ত্রিপুরা এ রাজবাড়ীতে রয়েছে রাজা বংশের বিভিন্ন চিত্র। ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়িতে গিয়ে ত্রিপুরার সঠিক ইতিহাস জানতে যাওয়া বাংলাদেশীদের প্রবেশ টিকেটের বৈষম্য করে রেখেছে রাজ্য সরকার। রাজবাড়িতে প্রবেশ মূল্য ভারতীয়দের জন্য ৪০ রুপি বিদেশি পর্যটকদের জন্য ১০০ থেকে ২৫০ রুপি দিতে হয়।রাজবাড়ি ভিতরে জাদুঘরে দেখে ত্রিপুরার রাজবংশের ইতিহাস প্রাচীন রাজনৈতিক সামাজিক সংস্কৃতি সম্পর্কে সহজেই  জানা যাবে। বাংলাদেশ সহ ভারতের বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীগণ ঐতিহাসিক প্রাচীন সংস্কৃতি দেখতে ছুটে যায় এই রাজবাড়িতে। রাজবাড়ির বাহিরে  ছবি বা ভিডিও করা যায় কিন্তু ভিতরে ছবি তোলা সম্পূর্ণ  নিষেধ। ছবি যাতে না তুলতে পারে ভিতরে রয়েছে  কক্ষে কক্ষে সিকিউরিটি গার্ড    রাজবাড়ী দেখতে আসেন দেশী বিদেশী পর্যটকরা। সার্বক্ষণিক দর্শনার্থীদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে। তাই সময় পেলে যে কেউ বেড়াতে পারেন। 

উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজবাড়ি প্রাসাদটি  ১৯০১ সালে  রাজা রাধা কিশোর মাণিক্য   ২০ একর জমির ওপর এই বাড়িটি তৈরে করেন। ।১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই ত্রিপুরা শাসন করেছিল ত্রিপুরা মাণিক্য রাজবংশ। প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে এই রাজবংশের ১৮৬ জন রাজা ত্রিপুরা শাসন করেন ।

রাজবাড়ি নিচে আর উপরে রয়েছে সুন্দর পরিপাটি সাজানো জাদুঘর। জাদুঘরটিতে আছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যগুলো প্রত্নতত্ত্ব, চারুশিল্পের অনেক নিদর্শন।জাদুঘরের প্রত্নতত্ত্ব বস্তর পাশে লেখা আছে ত্রিপুরা জাতির নিজস্ব ভাষা ককবরক, বাংলা ও ইংরেজি বিবরণ। একই সাথে বিভিন্ন গ্যালারিতে সাজানো রয়েছে শ্রীকৃষ্ণ, নারায়ণ  দেবদেবীর মূর্তি, মৃৎশিল্প, পোড়া মাটি ও ব্রোঞ্জ নির্মিত মূর্তি। সোনা-রুপা ও তামার মুদ্রাসহ তৈলচিত্র, বস্ত্র, অলঙ্কারও আছে। আদিম যুগের বেশ কিছু শিলালিপি ও সাজানো আছে সাথে বিভিন্ন মানচিত্রও। আছে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী সংস্কৃতির অংশ বিশেষ।

আর সবচেয়ে আকর্ষণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গ্যালারিতে। এই গ্যালারিতে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে থেকে আসা শরণার্থীদের বিভিন্ন দুর্লভ ছবি। আছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পরিবারের সকল সদস্যবৃন্দ।

ছবিগুলোতে ফুটে উঠছে শরণার্থীদের দুর্দশার চিত্র। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অপারেশনসহ যুদ্ধের সময় বিভিন্ন পত্রিকাতে প্রকাশিত সংবাদ গ্যালারিতে রাখা হয়েছে। দৈনিক জৈন্তা বার্তার এই প্রতিনিধি সাথে ছিলেন লাখাই মুক্তিযোদ্ধা কলেজের শিক্ষক তাপস কিশোর রায় ও তার ছেলে বৈদ্য কিশোর  রায়, তবে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষা নিয়ে অনেক কিছু আছে যা না দেখলে বুঝতে পারা যায় না। বাংলাদেশ যেহেতু ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তাই বাংলাদেশীদের দাবি রাজবাড়ীতে প্রবেশের টিকেটে বৈষম্য সৃষ্টি না করে  ভারতের নাগরিকদের সমান টিকিটের মূল্যে করার দাবী জানানো হয়।

জৈন্তাবার্তা/জেএ


This is the free demo result. For a full version of this website, please go to Website Downloader