ছবি : নিজস্ব
সুনামগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী এডভোকেট রনজিত চন্দ্র সরকার বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাগন এদেশের মানুষের অহংকার। আপনাদের অনুসরণ করেই আমরা নবীনেরা '৭৫ পরবর্তী রাজনৈতিক চেতনা ধারণ করছি। ১৯৭১ সালে আপনারা জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন বলেই আমরা লাল সবুজের পতাকা পেয়েছি। আজকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে এখানে এসে জননেত্রী শেখ হাসিনার হয়ে নৌকা প্রতিকে ভোট চেয়ে বক্তৃতা করতে পারছি। আপনাদের অসামান্য ত্যাগের কারণেই এদেশের স্বাধীনতা সূর্যের উদয় হয়েছে। অথচ ১৯৭৫ সালের পর জাতীর বীর সন্তানেরা নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতে ভয় পেতেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত এবং পুরষ্কৃত করেছেন।
২৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) জামালগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচনাবাজার বটতলায় মুক্তিযোদ্ধা জনতার মঞ্চ আয়োজিত সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক যুগ্ম-সচিব রইছ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কল্লোল সরকারের সঞ্চালনে অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় তিনি আরো বলেন, আমাদের হাওরাঞ্চলে যেখানেই যাচ্ছি রাস্তাঘাটে দূর্দশা-দূর্গতির অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বিগত ১৫ বছর এই অঞ্চলের কোনো উন্নয়ন কাজ হয় নাই। যিনি বিগত ১৫ বছর এই অঞ্চলের নেতৃত্বে ছিলেন, তিনি যদি এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দূর্দশার কথা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতেন, তাহলে এই অবহেলিত হাওরাঞ্চল এতো পিছিয়ে থাকতো না। কিন্তু তিনি সেসব কিছুই করেনি। বিগত ১৫ বছর তিনি শুধু এই অঞ্চলে নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন। তিনি দূর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন। তিনি আমাদের এই অঞ্চলের মানুষকে লজ্জিত করেছেন, কলংকিত করেছেন, বিব্রত করেছেন।
এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার মত নগণ্য একজন রাজনৈতিক কর্মীর হাতে নৌকা তুলে দিয়ে আপনাদের মাঝে পাঠিয়েছেন। তাই আগামি ৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মহামূল্যবান ভোট দিয়ে আবারো জননেত্রী শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে আপনাদের সমর্থন চাই।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আর নৌকা হচ্ছে সম্প্রীতির প্রতীক, অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক ও বাহক। আমরা আজীবন এই আদর্শকে সমুন্নত রাখতে চাই।
তিনি আরো বলেন, নগণ্য একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ১৯৮৬ সাল থেকে এদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে, এরশাদ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে, ভোট ও ভাতের আন্দোলনে প্রতিটি মিছিলের অগ্রভাগে থেকে মানুষের ন্যায্যতা প্রাপ্তির পক্ষে জীবন বাজি রেখে কথা বলেছি।
সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে গিয়ে বহুবার আমার জীবনের উপর হুমকি এসেছে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটিয়েছি। আমাকে গুম করা হয়েছিল। অনেকবার আমাকে হত্যার প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু আমি কখনও বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, আর নৌকার প্রশ্নে আপোষ করি নাই। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে আজ আপনাদের কাছে এসেছি। আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অর্থ-বিত্তের লালসা আমার নেই।আমি আপনাদের সেবক হয়েই থাকতে চাই। তাই জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত নৌকার সম্মান রাখতে এলাকাবাসী সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এম সি




