নির্বাচনের দিনের উত্তেজনার জেরে দোয়ারাবাজারে সংঘর্ষ।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনের দোয়ারাবাজার উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনে অংশ নেয়ায় নৌকা ও ঈগক প্রতিকের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বুধবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা সদরে এই সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় দুজন সাংবাদিকও আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশ ৯ জনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের দিন এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুহিবুর রহমান মানিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা শামিম আহমদ চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে উপজেলা সদরের মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।
নৌকার প্রার্থীর পক্ষের সমর্থকরা হলেন- নৈনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য আবদুল খালেক। অন্যপক্ষ হলো- স্বতন্ত্র প্রার্থী শামিম আহমদ চৌধুরীর সমর্থক মাছিমপুর গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় আওয়ামী লীগে নেতা সমর্থক আমরু মিয়া। নির্বাচনের দিনের ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। এর জেরে বুধবার দুপুরে উপজেলা সদরে বাসায় যাওয়ার সময় আবুদল খালেকের ছেলে আবুল মিয়ার ওপর হামলা চালান প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের ৫০ জনের মতো আহত হন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
আহতদের মধ্যে আবুল মিয়া (৩৬), আশিক মিয়া (৪২), মাসুদ রানা (২৫), জাবেদ আহমদ (২৩), গিয়াস উদ্দিনকে (৩০) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আশিক মিয়া দৈনিক আমাদের সময়ের উপজেলা প্রতিনিধি, মাসুদ রানা দৈনিক সংগ্রামের উপজেলা প্রতিনিধি। মাসুদ রানার অভিযোগ তিনি ভিডিও ধারণের সময় পুলিশ তাদেরও লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং মোবাইল ভেঙে ফেলে। আশিক মিয়া আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল খালেকের ছোট ভাই।
আশিক মিয়া বলেন, আমার ভাতিজা আবুল মিয়াকে হামলার পর তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আমি হামলার শিকার হয়েছি। এ সময় প্রতিপক্ষের একজনের হাতে পিস্তল ছিল।
মুহিবুর রহমান মানিকের সমর্থকদের অভিযোগ, আগের দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলে মামলা রেকর্ড করা হয়নি। যদি মামলা রেকর্ড করা হতো তাহলে আজকে শামীম গ্রুপের সমর্থকরা হামলা করার সাহস পেতো না।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস জানান, দোয়ারাবাজারে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ নয়জনকে আটক করেছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত। পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




