দোয়ারাবাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় ২১৬ জনকে আসামি করে মানিক সমর্থকের মামলা
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ PM

দোয়ারাবাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় ২১৬ জনকে আসামি করে মানিক সমর্থকের মামলা

জৈন্তা বার্তা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২/০১/২০২৪ ০৯:১৪:৪৫ AM

দোয়ারাবাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় ২১৬ জনকে আসামি করে মানিক সমর্থকের মামলা

দোয়ারাবাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা - ফাইল ছবি


সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের দোয়ারাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় ৬৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে নৌকার সমর্থক বাবুল মিয়া বাদী দোয়ারাবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) সকালে দোয়ারাবাজার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল হাসান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের সমর্থক পশ্চিম নৈনগাঁও গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে বাবুল মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।’

গত ৭ জানুয়ারি দোয়ারাবাজার সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে মুহিবুর রহমান মানিক নৌকার প্রার্থী ও স্বতন্ত্র ঈগল মার্কার প্রার্থী শামীম আহমদ চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিত করা নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের ৬ জন আহত হয়। এ ঘটনার জের ধরে ১০ জানুয়ারি সকালে দোয়ারাবাজার উপজেলার নৈনগাঁও ও মাছিমপুর গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের ৭০ জন আহত হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের দোয়ারাবাজার সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের পুরুষ ও মহিলা দুটি ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার নিয়ে নৌকার প্রার্থী মুহিবুর রহমান মানিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম আহমদ চৌধুরীর লোকজনের মধ্যে ভোট গ্রহণের কয়েক দিন আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে প্রমাণ ছাড়াই হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। এসব নিয়ে উভয়পক্ষের লোকজন বিক্ষুব্ধ ছিলেন। দুটি কেন্দ্রের অবস্থান মাছিমপুর গ্রামের পাশে। মাছিমপুর গ্রামের বেশির ভাগ ভোটার শামীম আহমদ চৌধুরীর সমর্থক ও দিকে নৈনগাঁও গ্রামের বেশির ভাগ ভোটার নৌকার সমর্থক। ভোটকেন্দ্র থেকে নৈনগাঁও গ্রামের অবস্থান প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে আর মাছিমপুর গ্রামের খুব কাছেই দোয়ারাবাজার শহর।

মাছিমপুর গ্রামের আমরু মিয়ার ছেলে শামীম আহমদের সমর্থক ও নৈনগাঁও গ্রামের জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল খালেকের ছেলে আবুল হোসেন নৌকার মার্কার সমর্থক। তার বাসা মাছিমপুর গ্রামের পাশে। ৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাতে পূর্ব মাছিমপুরের আমরু মিয়ার ছেলে ঈগল মার্কার প্রার্থী শামীম আহমদের সঙ্গে পাশের নৈনগাঁও গ্রামের  নৌকার সমর্থক আবুল হোসেনের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে আবুল হোসেনের সমর্থকরা শামীম আহমদের পূর্ব মাছিমপুরের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ উভয়পক্ষকে শান্ত করে মারমুখী অবস্থান থেকে সরিয়ে দেয়। পুলিশ উভয়পক্ষকে শান্ত করে সরিয়ে দিলেও পূর্ব মাছিমপুরের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপের জের থেকে যায়।

১০ জানুয়ারি সকালে শামীম আহমদ ও তার ভাই ইমরুল আহমদের নেতৃত্বে তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা দোয়ারাবাজার শহরের নৌকার সমর্থক আবুল হোসেনের বাসভবনে হামলা করে। বাসভবনে  হামলার খবর নৈনগাঁও গ্রামের লোকজনের মধে ছড়িয়ে পড়লে নৈনগাঁও গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পূর্ব মাছিমপুর ও পশ্চিম মাছিমপুর গ্রামবাসীর সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।  দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ শুরুতে সংঘর্ষ থামানো চেষ্টা করে কিন্তু পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তা সম্ভব হয়নি।  পরে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ছাতক ও সুনামগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৭০ জন নারী পুরুষ আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে ৫৫ জন রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়। সংঘর্ষ ঠেকাতে ১০০ রাউন্ড রাবার বুলেট কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে সংঘর্ষস্থল থেকে পুলিশ ৯ জনকে আটক করে। মাছিমপুর গ্রামে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুটি রামদা ও একটি তলোয়ার বেশ কিছু বাঁশের লাঠি  ও কাঠের রুল উদ্ধার করে। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষের কারণে দোয়ারাবাজার উপজেলার আজমপুর ও দোহালি খেয়াঘাটে নৌকা চলাচল নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, ভোট গ্রহণের আগে থেকে উভয় গ্রুপের লোকজনের মধ্যে নীরব উত্তেজনা চলছিল। ভোটের দিন এই কেন্দ্রের বাইরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়।

দোয়ারাবাজার উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা ও সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য খালেক মিয়া বলেন, ‘ভোটের আগের দিন পূর্ব ও পশ্চিম মাছিমপুরের নৌকা ও ঈগল মার্কার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আমার ছেলে নৌকা মার্কার সমর্থক। আমরা পশ্চিম মাছিমপুরের লোকজনকে বুঝিয়ে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসি। মঙ্গলবার আবার পূর্ব মাছিমপুরের শামীম, ইমরুল, হুমায়ন ও ফয়েজসহ বেশ কয়েকজনের একটি সংঘবদ্ধ দল আবুল হোসেনর দোয়ারাবাজারের বাসার সামনে এসে মারামারি করার জন্য আহ্বান জানায়। এ ঘটনা নৈনগাঁও গ্রামের মানুষ জানতে পেরে তারা মাছিমপুর গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। পরে পুলিশ তাদের বিরত রাখে। ৭ জানুয়ারি সকালে আমার ছেলে আবুল হোসেনকে বাসায় এসে তারা হামলা করে। এ সময় আমার ভাই আশিক মিয়া ও ছেলে আবুল হোসেন ও জাবেদ আহত হয়। হামলার পর আবারও দুই গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থামাতে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে ৪৫ জন আহত হয়। তাদের সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

জৈন্তাবার্তা/জেএ



শীর্ষ সংবাদ:

মাধবপুরে নি'খোঁজের ৩ দিন পর মিলল যুবকের ম'রদেহ
সিলেটে সন্ধ্যার মধ্যে হতে পারে ঝড়
জৈন্তাপুরে পতিত জমিতে বস্তায় আদা চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন ইউসুফ
স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী চয়ন
জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা পেলেন এটিএম তুরাবসহ ৫ সাংবাদিকের পরিবার
সিলেটে ছাত্রলীগের ঝ*টিকা মি*ছিল, গ্রে*প্তার সাত
শিক্ষার মানোন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে’ : এমপি শওকতুল ইসলাম
জুলাই গণহ*ত্যার বি*চার নিশ্চিত করবে সরকার : এমপি এমরান চৌধুরী
জৈন্তাপুর কানাইঘাটে ৫৪ লাখ টাকার বেশি ভা র তী য় চোরাচালানী মালামাল জ*ব্দ
সিলেটে পুলিশের বিশেষ অ'ভিযানে গ্রে'প্তার ৫৮