প্রতিকী ছবি
দেশের সবচেয়ে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসাবে দেশে-বিদেশে প্রশংসিত রাজশাহী মহানগরীতে দুটি স্টেডিয়ামের একটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম। অপরটি শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে রাজশাহীতে বিভাগীয় স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের বড় কোনো আসর বসেনি। ফলে রাজশাহীর দুটি স্টেডিয়াম বছরের বেশিরভাগ সময়ই অব্যবহৃত থাকে। স্থানীয়ভাবে কিছু খেলাধুলা হয় মাঝেমধ্যে।
এদিকে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ও শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি হিসাবে বিসিবির উদ্যোগে ২০০৪ সালে বসানো হয় ফ্লাডলাইট। গত দুই দশকে রাজশাহীর এই দুটি স্টেডিয়ামে কয়েকটি ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে কোনো ক্রিকেট ম্যাচ হয়নি।
স্টেডিয়াম দুটি থেকে খুলে নেওয়া হচ্ছে ফ্লাডলাইট। রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ১৮ জানুয়ারি থেকে রাজশাহীর এএইচএম কামারুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট খোলা হচ্ছে। চলতি বিপিএলের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট খুলে সিলেটে নেওয়া হচ্ছে। বিসিবি থেকে দুটি দল রাতের আঁধারে খুলে নিয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর ফ্লাডলাইট, যাতে স্থানীয়রা বাধা দিতে না পারে। কয়েক বছর আগে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট খুলে লাগানো হয়েছিল খুলনা স্টেডিয়ামে। ২০১৩ সালে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্টেডিয়ামের কিছু ফ্লাডলাইট খুলে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে লাগানো হয়। পরে ফ্লাডলাইট রাজশাহী স্টেডিয়ামে ফিরিয়ে আনার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা ফিরিয়ে আনা হয়নি। সেই ধারাবাহিকতায় ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম থেকে ফ্লাডলাইট খুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সিলেট স্টেডিয়ামে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম ২০০৪ সালে নির্মিত হয়। দর্শক ধারণক্ষমতা ৩৫ হাজারের বেশি। এই স্টেডিয়ামে ২০০৪ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের তিনটি এবং ২০১০ দক্ষিণ এশীয় গেমসের চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ইন্দো-বাংলা গেমসে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটিও রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করতে ও রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের খেলাধুলার চাহিদা মেটাতে রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের লক্ষ্যে দুটি স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট বসানো হয়েছিল। সেগুলো এখন খুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ক্রীড়ামোদী ব্যক্তিরা বলছেন, রাজশাহীর দুটি স্টেডিয়াম থেকে ফ্লাডলাইট সরিয়ে নেওয়ায় এখানে আগামীতে ডে-নাইট ম্যাচ খেলার সুযোগ আর হবে না।
জানা গেছে, রাজশাহী ক্রীড়াঙ্গন সংশ্লিষ্ট কাউকে না জানিয়ে ফ্লাডলাইটগুলো নেওয়া হচ্ছে। রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন স্বয়ং এ বিষয়ে অবগত নন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আমি গত কয়েকদিন রাজশাহীতে ছিলাম না। এই ফাঁকে ফ্লাডলাইট খুলে নেওয়া হচ্ছে বলে শুনেছি। ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের বলেছি, এগুলো রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম থেকে যেন খুলে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া না হয়।’
জৈন্তাবার্তা/জেএ




