প্রতিকী ছবি
কুষ্টিয়া শহরের মঙ্গলবাড়িয়া এলাকায় ছেলে মুগ্ধকে (৭) স্কুলে ভর্তি করাতে না পারার ক্ষোভে বাবা রেজাউল করিম ও তার ছেলে আত্মাহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ৪টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
রেজাউল করিম মধু শহরের আলফা মোড় এলাকার বিষ্ণুপদ রায়ের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধর্মান্তরিত হওয়ার পর রেজাউল তার জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনী নিয়ে বেশ জটিলতায় ভুগছিলেন। এর জন্য তিনি তার সাত বছর বয়সী ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারেনি। এই ক্ষোভ থেকে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন।
রেজাউলের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, আট বছর আগে রেজাউল করিম ধর্মান্তরিত হয়ে মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আসাদুল মণ্ডলের মেয়ে শেফালি খাতুনকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে তার নাম ছিল মধুসূদন রায়। স্ত্রী অসুস্থ থাকায় বেশ কিছু দিন ধরে রেজাউল আলফা মোড়ের শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, রেজাউল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ছেলে মুগ্ধকে (৭) নিয়ে হরেকৃষ্ণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সন্তানকে নিয়ে ফিরে না আসায় মা শেফালি পাশেই তাদের ভাড়া বাসায় আসেন। এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করেন। এরপর কোনো সাড়া না পেয়ে জানালার ছিদ্র দিয়ে দেখতে পায় তার স্বামী ও সন্তান ঘরের মধ্যে একই রশিতে ঝুলে আছে। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের পাঠায়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সোহেল রানা বলেন, ‘এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। এখানে আত্মহত্যা ও হত্যা- দুটিই থাকতে পারে। ছেলেকে হত্যার পর বাবা আত্মহত্যা করতে পারে।’
ওসি আরো জানান, রেজাউল ধর্মান্তরিত হওয়ার পর থেকে তার জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনী নিয়ে বেশ জটিলতায় ভুগছিলেন। এর জন্য তিনি তার ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারেনি। এই নিয়ে তার বেশ ক্ষোভ ছিল। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে জানা যাবে।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




